করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ছে শ্রমজীবী মানুষ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এতে বিপাকে পড়েছে রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ। করোনা প্রভাবে মানুষজনের চলাচল না থাকায়, শ্রমজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। 

রবিবার (২৯ মার্চ) রাজীবপুর উপজেলা শহর ও আশেপাশের এলাকায় ঘুরে দেখে গেছে শ্রমজীবী মানুষের চোখেমুখে বিষন্নতার ছাপ। অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরা ঝুঁকি নিয়েই রোজগারের আশায় ঘর থেকে বের হয়েছেন। কিন্তু যানবাহনে চড়ার মত যাত্রী নেই। অলস বসে আছেন তারা। 

সবকিছু বন্ধ তবুও ঘর থেকে বের হয়েছেন কেন? জানতে চাইলে এক ভ্যানচালক বলেন, 'পেট তো আর এসব বোঝে না। বাড়িতে ৫ জন সদস্য। মাত্র ৩০ টেকা ইনকাম করছি খুব কষ্টে আছি কি দিয়া বাজার করমু পরিবার কেমনে চালামু এই চিন্তায় আছি।'

উপজেলার নৌকা ঘাটে কুলির কাজ করে শাহাজামাল (৫০)। নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তার মত আরও ১০ জন। কিভাবে পারিবারিক খরচ যোগাচ্ছেন জানতে চাইলে শাহজামাল বলেন, 'কিছু জমানো টাকা ছিল এছাড়াও ধারদেনা করেই খরচ চালাচ্ছি।' 

রাজীবপুর উপজেলা শহর সংলগ্ন কাচারীপাড়া গ্রামের আরেক ভ্যানচালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত তার এক টাকাও আয় হয়নি। পরিবারে ৪ জন সদস্য। পুলিশ মাঝে মধ্যে হুইসেল বাজিয়ে টহল দেয় তখন আড়ালে পালিয়ে থাকতে হয় তার। 

কর্মহীন হয়ে যাওয়া এসব শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের কাছে ১.৩ মেট্রিকটন চাল ও ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। চাল প্যাকেটজাত করে দিনমজুর ও শ্রমজীবী পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসা হবে। 

রৌমারী উপজেলার শ্রমজীবী মানুষের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, রৌমারী উপজেলার জন্য ২.৬ মেট্রিক টন চাল ও ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বিতরণের জন্য।