গুরুদাসপুরে গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ালেন ৮ বন্ধু

নাটোরের গুরুদাসপুরে 'আমরা আছি গ্রামবাসীর পাশে' ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাড়াঁলেন প্রতিষ্ঠিত ৮ বন্ধু। গ্রামের নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া দিনমজুরদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে করোনা প্রভাবে কর্মহীন নিজ গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ালেন তারা। 

জানা যায়, ওই আট বন্ধুর প্রায় সবাই চাকুরীজীবি, তবে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন তারা। তাই দেরি না করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই নেমে পড়লেন মানবতার সেবায়।

আট বন্ধু এক সাথে বড় হয়েছেন। বাল্যকাল থেকেই যেমন ছিলেন মেধাবী, প্রতিবাদী, তেমন মানবপ্রেমী। সময় পেলেই লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামের অসহায় পিছিয়ে পরা মানুষদের নিয়ে ভাবতেন। এদের কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ প্রশাসনে, কেউবা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। 

তারা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিছু ছবি পোস্ট করে জানান, আসুন আমরা সবাই জাতির এই ক্লান্তিলগ্নে গ্রামের গরিব দুস্থদের পাশে দাঁড়াই। তখন থেকেই পুরো দমে শুরু হয় তাদের কার্যক্রম। গুরুদাসপুরের নাজিরপুর গ্রামের আট বন্ধুর মিলে গ্রামের নিম্নআয়ের খেটে খাওযা দিনমজুরদের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের সামর্থ অনুযায়ী সেবা।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আট বন্ধুর মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ফার্মাসিস্ট মো. মুকুল হোসেন, প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম স্বপন, ব্যাংক কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র ঘোষ, বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট জাকির হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী নয়ন কুমার সাহা, বকুল চন্দ্র গোষ, রিপন সরকার, প্রবাসী সোহেল ফারুক। 

করোনা প্রাদুর্ভাবে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ছুটিকালিন সময়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা।

তারা জানান, ৫ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু, হাফ কেজি সয়াবিন, মশুরের ডাল এবং ১টি সাবান দিয়ে প্যাকেজ তৈরি করে গ্রামের অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছি। যত দিন ছুটিতে আছি ততদিন শতাধিক মানুষের মাঝে চলবে আমাদের এই সহায়তা। 

তারা আরও জানান, করোনা বিষয়ক যেকোন পরিস্থিতিতে সার্বিক সহায়তার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম ও একটি হটলাইন নাম্বার (০১৯১৯৭৩৯৭৯২) সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করবে সহযোগিতা করার।