পুঠিয়ায় শ্যালিকাকে ধর্ষণ করলো দুলাভাই, লজ্জায় আত্মহত্যা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে তারই দুলাভাই এখলাস আলী। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে লোকলজ্জার ভয়ে ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই কিশোরী।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত কিশোরীর বাবা একজন ভ্যানচালক। নিহত কিশোরী ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

ধর্ষক এখলাস আলী জিউপাড়া ইউনিয়নের হলহোলিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

নিহত কিশোরীর পিতা বলেন, প্রায় তিনমাস আগে জিউপাড়া ইউনিয়নের হলহোলিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এখলাস আলীর সাথে আমার বড় মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়। প্রায় ১৫দিন আগে মেয়ের শ্বশুর-শ্বাশুড়ি বেড়াতে গেলে শ্বশুর বাড়িতে বড় মেয়ে একা হয়ে যায়। দু’বোন এক সাথে থাকলে ভালো হয় জানিয়ে জামাই এসে ছোট মেয়েকেও নিয়ে যায়। ছোট মেয়ে তার বোনের বাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ ছিলো। এরপর কয়েকদিন আগে সে বাড়ি এসে কারো সাথে কোনো কথা বলতো না। চঞ্চল মেয়ে গম্ভীর হয়ে সারা দিন ঘরের মধ্যে থাকতো। পরে সে তার মাকে বলে, দুলাভাই জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতো। আমি বিষয়টি জানার পর লম্পট এখলাসের বাড়ি থেকে বড় মেয়েকে নিয়ে আসি। পরে এই ঘটনায় জামাইয়ের পরিবারকে জানিয়েও এর কোনো বিচার পাইনি। গতকাল সকালে দুই মেয়েকে নাস্তা খাইয়ে আমি ভ্যান চালাতে রাজশাহী শহরে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ছোট মেয়ের আত্মহত্যার খবর পাই।

তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে ছোট মেয়ে আত্মহত্যা করলো আমি তাদের কঠিন বিচার চাই।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ গতকাল দুপুরে খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনেন। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মেয়েটির বাবা গতকাল রাতে বাদি হয়ে জামাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামী এখলাস আলী ও তার পিতা পলাতক রয়েছে। তবে মামলার তিন নম্বর আসামী এখলাসের মা জরিনা বেগম (৪৮) কে আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি।