করোনার আতঙ্কে পুলিশ সদস্যকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ বাড়িওয়ালার

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের আশঙ্কায় এক বাড়িওয়ালা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাজমুল হককে পরিবারসহ বাড়ি ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ওই বাড়িতে কনস্টেবল আলমগীর ও এএসআই জসিমও পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাদেরও হয়রানি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছেন বাড়ির মালিক।


বুধবার (৬ মে) বিকেলে এ অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাজমুল হক। 

জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়ার বাসিন্দা রতন নামে এক বাড়ির মালিকের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেন পুলিশ সদস্য নাজমুল হক। তখন থেকে সেই বাড়িতে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর থেকে বাড়ির মালিক রতন ও তাঁর স্ত্রী তাদের সঙ্গে ভালই ব্যবহার করতেন। দেশে সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেওয়ার পর থেকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন বাড়িওয়ালা রতন।

নাজমুল হক অভিযোগ করে হক বলেন, 'বাড়ি ছাড়ার নির্দেশের পর বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আমাকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হয় সব সময়। কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলে শুনতে হয় বাড়ির মালিকের অকথ্য ভাষার কথা এবং বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার চাপ। বাড়ি মালিক রতন ও তাঁর স্ত্রী মনে করেন আমি বাড়িতে করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছি। এ কারণে তারা আমাদের চাপ প্রয়োগ করে বাড়ি ছেড়ে দিতে। করোনাভাইরাস থেকে মানুষদের জীবন বাঁচাতে আমরা যখন কাজ করছি, ঠিক তখনই বাড়ি মালিকের এমন আচরণ মনে কষ্টে দেয়। এ সময়ে যদি বাড়ির মালিকরা বাড়ি ছাড়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয় বা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে তাহলে আমরা এই সময় নতুন করে কোথায় বাড়ি ভাড়া পাব।'

বাড়ি ছেড়ে দেওয়া কনস্টেবল আলমগীর ও এএসআই জসিম জানান, 'করোনা পরিস্থিতির আগে বাড়ি মালিক রতন ও তাঁর স্ত্রী আচরণ ভালই ছিল। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ঘর ছেড়ে দিতে মালিকপক্ষ নানা হয়রানি করে। তাই আমরা বাধ্য হই বাড়ি ছেড়ে দিতে।'

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ওই বাড়ির মালিক দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঘর ছাড়া করেছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।