চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ

পোনা বিক্রি নিয়ে শঙ্কা

দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন জেলেরা। উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যাপক ডিম সংগ্রহ করতে পারায় খুশি ডিম সংগ্রহকারীরা। তবে বর্তমান করোনা মহামরীতে পোনা বিক্রি নিয়ে রয়েছে শঙ্কাও।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) অমাবস্যা তিথির জো’র প্রথম রাতে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে রুই জাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাইশ) মা-মাছ। আজ শুক্রবার (২২ মে) বিগত বছরের পুরানো সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ হাজার ৫শ ৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১২টার দিকে জোয়ারের সময় মা-মাছের কিছু নিষিক্ত ডিম পেলেও আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুরোদমে ডিম ছেড়েছে মা-মাছগুলো। যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৫শ ৩৬ কেজি। মৎস্য অধিদপ্তর, হালদা রিভার রিচার্স সেন্টার ও হালদায় প্রকল্প কাজে নিয়োজিত এনজিও সংস্থা আইডিএফসহ তিনটি দফতরের কর্মকর্তারা মা-মাছের দেয়া এ নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন।

সূত্র আরও জানায়, প্রতি বছর হালদা নদীতে মা মাছ এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথির একটি বিশেষ মুহূর্তে ও পরিবেশে ডিম ছাড়ে। আর ডিম ছাড়ার এই বিশেষ সময়কে জো বলা হয়। গত তিন দিন ধরে দমকা, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়। এই কারণে মা মাছ পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে নমুনা ডিম ছাড়ে। পরে পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় মধ্যরাতে হালদা নদীর বিভিন্ন জায়গায় ডিম ছাড়ে মা মাছ।

এদিকে দেশে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী হলেও হালদা নদীর আবহাওয়া পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা-মাছের দেয়া নিষিক্ত ডিম সংগ্রহে বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ ও পারদর্শী প্রায় সাড়ে ৬শ ডিমসংগ্রহকারী ছিলেন প্রস্তুত। ডিম ধরার মশারি জাল, বালতিসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে হালদা নদীর বুকে ২৮০টি নৌকায় ডিম সংগ্রহ করেছেন মৎস্যজীবীরা।

হাটহাজারী উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজী আবুল কালাম বলেন, 'জেলেরা ডিম বেশি সংগ্রহ করেছেন। বাজারে চাহিদা যদি থাকে তাহলে তারা বেশি লাভবান হবেন।'

হালদা নদী দূষণ বন্ধ, মা মাছ রক্ষা ও ড্রেজার চলাচল বন্ধ রাখায় গত ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ডিম পাওয়া গেছে বলে জানান হালদা রিসার্চ এন্ড ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

তিনি বলেন, 'আগামী কয়েকদিনে এখন থেকে প্রায় ৩৭৮ কেজি রেণু উৎপাদন হবে যদি সবকিছু ঠিক থাকে।'

উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে গেছে। এটি বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটা নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে পূর্ণিমায় প্রবল বর্ষণ আর মেঘের গর্জনের পর পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছ স্মরণাতীত কাল থেকে ডিম ছেড়ে আসছে। হালদা নদীর গড়দুয়ারা, নয়াহাট, মাছুয়াঘোনা, মারঘাট, নাপিতেরহাট সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এই ডিম সংগ্রহ করা হয়।