নোয়াখালীতে অসহায়দের পাশে সাংসদ একরামুল করিম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে লকডাউনের প্রভাবে শ্রমজীবী ও গরিব দুঃখী মানুষ পড়েছেন চরম সঙ্কটে। অতীতের মত এ সঙ্কটময় সময়ে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে টানা তিনবার নির্বাচিত সাংসদ ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানবীর একরামুল করিম চৌধুরী দাঁড়িয়েছেন বিপন্ন এ মানুষগুলোর পাশে। করোনাকালীন সময়ে মানুষের সেবায় গড়ে তুলেছেন একরাম চৌধুরী ফাউন্ডেশন। আর এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই সমাজের গরিব, দুঃখী ও অভাবী মানুষদের কাছে অর্থ, খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি সহায়তাসহ সবধরনের সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, করোনা প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ে লজ্জায় যারা কারো কাছে হাত পাততে পারেন না, এমন নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্য উপহার পৌঁছে দিতে একরামুল করিম চৌধুরীর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে 'ইমার্জেন্সি ফুড ক্রাইসিস রেসপন্স টিম' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম। যাদের কাজ হল, নাম পরিচয় গোপন রেখে রাতের অন্ধকারে অসহায় মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানো। আর ইমার্জেন্সি ফুড ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যরা সাংসদ একরামুলের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে রাতের অন্ধকারে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য উপহার। 

এমন উপহার পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। ইমার্জেন্সি ফুড ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্য রাহি ও রাশেদ রানা জানান, এমন মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে তারাও নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার চেয়ারম্যান একেএম শামছুদ্দিন জেহান জানান, ইতোমধ্যে একরাম চৌধুরী ফাউন্ডেশন পক্ষ থেকে জেলার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং জেলায় স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য দিয়েছেন ১০ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী। কৃষিকাজে আরো গতিশীলতা আনার জন্য একটি নতুন ধান কাটার মেশিন ক্রয়ের জন্য দিয়েছেন ১৪ লাখ টাকার আর্থিক প্রনোদনা। জেলার অসুস্থ ও কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও সাংবাদিকদের প্রত্যেকের জন্য দিয়েছেন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ।

এ ব্যাপারে সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যার যার সামর্থ অনুযায়ী এ মানবিক কাজে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। এছাড়াও ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু করোনাকালীন সময়ে নয়, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন মানুষের পাশে থাকবেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। 

করোনার সময়ে নোয়াখালীতে যদি কারো দাফন-কাফনে সমস্যা হয় বা কবর দিতে সমস্যা হয়, তাকে জানালে তিনি নিজেই তার দাফন ও জানাজা পড়ে কবরস্থ করবেন। সমাজে আরো যারা বিত্তবান রয়েছেন, তাদেরকেও জাতির এ দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি তার।