উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ইসলামপুরের গাইবান্ধা বাজারে

প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতেরচর-গাইবান্ধা বাজারে। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ পথচারীদের।

জানা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় উপজেলার সর্ববৃহৎ গাইবান্ধা ইউনিয়নে নাপিতেরচর-গাইবান্ধা গো-হাটের রূপ দিন দিন বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। হাটের দক্ষিণ পাশের প্রবেশ পথে বৃহৎ আকারে গর্তের সৃষ্টি হয়ে জলজট হওয়ায় বাজারে প্রবেশ করা বড়ই মুশকিল হয়ে পড়ছে। 

আশির দশকের সাড়া জাগানো স্থানীয় অরাজনৈতিক সংগঠন নিম্ন অঞ্চলীয় ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম কালা মানিক জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই হাটের অধিকাংশ গলিতেই হাঁটু পানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় কাদার। এতে ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন সাদা মিয়া জানান, উপজেলার এ হাট থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে আয় হলেও উন্নয়ন হয়নি হাটের।

বাজার প্রতিষ্ঠাদাতাদের উত্তরসূরি ব্যবসায়ী সুলতান আকন্দ জানান, গত বছর এ হাটের সরকারি নিলাম দর ছিল প্রায় বিশ লাখ টাকা। চলতি বছরেও প্রায় একই নিলাম দর রয়েছে। কিন্তু বাজারের উন্নয়ন নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা যতটুকু আছে, সেটার অবস্থাও অত্যন্ত লাজুক। সামান্য একটু বৃষ্টিতে বাজারের অধিকাংশ গলিতেই জলজটের সৃষ্টি হয়েছে। পানি-কাদা মাড়িয়ে লোকজন চলাচল করছে।

এদিকে, উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং উপজেলার সর্ববৃহৎ গো-হাট নাপিতেরচর গাইবান্ধা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হলেও জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নেই। বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘদিন বাজারের ড্রেন পরিস্কার না করায় বর্জ্য জমে সামান্য একটু বৃষ্টি হলে ড্রেনের পঁচা পানি উপচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এমনকি দোকানের ভিতর ঢুকে পড়ে পানি। 

বর্ষা মৌসুমে ক্রেতা বিক্রেতা ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এছাড়া বাজারের গলিপথগুলো সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ছোট ছোট খুপরি ঘর তৈরি করে ব্যবসা করায় বাজারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় হাটে আগত লোকদের দাঁড়ানোর নেই কোন ছাউনি। সরকারি সেট ঘরগুলো দখল করে রেখেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাজারের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মালামাল রেখে দখল করে রেখেছে। প্রতি সোম ও শুক্রবার বড় হাট হয়। বাজারের মধ্য গলিতে হাট বসায় যানবাহন চলাচল বিঘ্ন ঘটছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টির ব্যাপারে আমি অবগত আছি। হাটের উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।