করোনা যুদ্ধে ফুলবাড়ীর ইউএনওর নিরলস প্রচেষ্টা

করোনা যুদ্ধে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুস সালাম চৌধুরীর নিরলস প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। পরিবার পরিজনকে ছেড়ে করোনা মহামারীর এই সঙ্কটময় মুহুর্তে ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার মানুষের পাশে দিনরাত একাকার করে ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে চলছেন তিনি। এমনকি এবার তার ঈদও কেটেছে মানুষের সেবার মধ্যদিয়ে। কর্মক্ষেত্রের প্রত্যেকটি জায়গায় তিনি অত্যন্ত জনবান্ধব, সৎ, কর্তব্যপরায়ণ, মেধাবী ও সাহসীকতার পরিচয় রেখেছেন।

জানা যায়, মহামারি করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েও ইউএনও আব্দুস সালাম চৌধুরী এক মুহুর্তের জন্য পিছপা হননি। সরকারি নির্দেশনা, ঘোষিত লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য মানবিক কাজে নিজেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত রেখেছেন। তার কাজের মহিমায় উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ও উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাগণ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। তার এই কর্মগুনে তিনি আমজনতার ইউএনও হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওউএনও) আব্দুস সালাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ফুলবাড়ী পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাস সংক্রমণে কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং, বাজার মনিটরিং, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের তদারকি, তাদের গতিবিধি তদারকি এবং দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে আগত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহায়তা করা এবং প্রত্যেক হতদরিদ্রের নিকট সুষ্ঠভাবে ত্রাণ পৌঁছানোর লক্ষ্যে তার নির্দেশে উপজেলায় নিয়োগকৃত ট্যাগ (তদারকি) কর্মকর্তারা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। 

সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এ উপজেলায় তিনি ফুড বাস্কেট নামে খাদ্য সংগ্রহের জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে সফলতার সাথে বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য সহযোগিতাসহ আর্থিক সহায়তা নিয়ে কর্মহীন মানুষদের মাঝে বিতরণ করে যাচ্ছেন, যা জেলা শহরসহ অত্র এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

ফুড বাস্কেটের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত খাদ্য উপজেলা ত্রাণ কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যেখানে যখন খাদ্য সঙ্কট পড়েছে তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে ওই মানুষগুলোর মাঝে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করেছেন। এমনকি ঈদের দিনেও নিজের কথা না ভেবে ছুটে গেছেন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মানুষগুলোর খোঁজ খবর নিতে এবং তাদের সহায়তা দিতে। যাতে তারা কষ্ট না পায়। 

তবে প্রতিটি কাজে তাকে সার্বক্ষনিক বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন, উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হাসানুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এটিএম হামীম আশরাফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুজ্জামানসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তাগন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ, সাংবাদিকগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধিজন ও জনপ্রতিনিধিগণ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়া সকল পরিবারগুলো যেন ত্রাণ সহায়তার আওতায় আসে সেদিকে লক্ষ রেখে ইউপি চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং করাসহ বাজার মনিটরিং, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের তদারকি করে তাদের তাদের খাদ্য সরবরাহ করা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে সবসময় মানুষের কাছে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।