নোয়াখালীতে সাংবাদিক হত্যা: ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পিবিআই

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশের করা বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামিকে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ২-এর বিচারক এসএম মোসলেহউদ্দিন মিজানের আদালতে পিবিআই তাদের শোন অ্যারেস্টের আবেদন করে। আদালত তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান এ আবেদন করেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলো ইউসুফ নবী বাহাদুর, আলমগীর হোসেন, রাহাত, আবদুল আমিন, আজিজুল হক মানিক, মোশারফ হোসেন, সুজায়েত উল্যা সবুজ, বিক্রম চন্দ্র ভৌমিক, ফয়সাল আলম টিটু, দেলোয়ার হোসেন, মাসুদুর রহমান ও সেলিম।

সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জে আ'লীগের বিবদমান কাদের মির্জা ও বাদল গ্রæপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মালায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১২ জনকে ওই মামলায় শোন অ্যারেস্ট  দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদেরকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

পিবিআই নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান মুন্সী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১২ আসামিকে শোন অ্যারেস্টের দেখানোর জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে।  ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মুজাক্কির।

এ ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে মুজাক্কিরের বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।