বকশীগঞ্জে শিশুকে চাপা দেওয়া বাস চালককে ছেড়ে দিল পুলিশ!

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহতের ঘটনায় জনতার হাতে আটক হওয়া বাস চালক ও সহকারীকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘাতক বাস চালককে ছেড়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এ ঘটনার তদন্ত করতে আসেন গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল কাদের জিলানী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর এলাকায় ড্রিমল্যান্ড নামে একটি বাস ইয়াকুব আলী (১০) নামে এক শিশুকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যান। স্থানীয় এলাকাবাসী বাসটি আটকের চেষ্টা করলে চালক দ্রুত বাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকার লোকজন বাসটিকে আটক করেন। একই সাথে বাসের চালক ও চালকের সহকারীকেও আটক করা হয়।

পরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাস চালক ও সহকারীকে বকশীগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনায় বকশীগঞ্জ হাইওয়ে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলায় ঘাতক চালক ও সহকারী আটক না দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। বাস চালক ও সহকারীকে ছেড়ে দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয় এলাকায় এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে গাজীপুর হাইওয়ে জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল কাদের জিলানী ১৭ এপ্রিল বিকালে বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকায় তদন্তে আসেন। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। বকশীগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এমন কর্মকান্ডে পুলিশী সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

তবে বকশীগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন দাস আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, 'এ ঘটনাটি আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।'