কুমারখালীতে লকডাউন ভেঙে চলছে কোচিং সেন্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে কোচিং বাণিজ্য। আর এসব কোচিং-এ মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাশঁগ্রাম, শালঘরমধুয়া, দূর্বাচারা এলাকা ঘুরে দেখা যায় ইমরান মাষ্টার, আছির মাষ্টার, জাফর মাষ্টার, মাহাবুব মাষ্টার, এদের সবারই একটি করে নিজস্ব কোচিং সেন্টার রয়েছে। এক একটি কোচিং এ প্রায় দুই শত ছাত্র-ছাত্রীকে বিভিন্ন ব্যাচ করে পড়ানো হয়, প্রতি ব্যাচে ৩০ থকে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।

লার্নার’স পয়েন্ট এর শিক্ষক ইমরানের যে কোচিং সেন্টার রয়েছে সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক এক বেঞ্চে ৪ জনকে বসিয়ে ঐ ব্যাচ এ ২৫ জন কে সে পড়াচ্ছে, নেই কোনো দূরত্ব বা মুখে মাস্ক, ঐ বাজারেই গাইড লাইন নামের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে মাহাবুব রহমানের, সাংবাদিকদের উপস্থিত ঠিক পেয়ে তড়ি ঘড়ি করে কোচিং এর ফ্যান লাইট চালু রেখেই ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে পালিয়ে যায় সবাই।

শালঘরমুধুয়া শস্বান বাজার এলাকায় ইংলিশ কেয়ার হোম নামের একটি কোচিং রয়েছে, সেখান কার শিক্ষক জাফর স্যার তিনিও সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে ছাত্র ছাত্রীদের রুমে আটকে রেখে বাইরে থেকে পালিয়ে যায়। পরে জাফর স্যারের ফোনে ফোন দিলে ফোন ও বন্ধ পাওয়া যায়, দুই ঘন্টা পার হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি, পরে বাজারের লোকজন তালা ভেঙে ছাত্র ছাত্রীদের বের করে দেয়।

বাজারের কিছু লোক জন অভিযোগ করে বলেন, ইংলিশ কেয়ার হোম কোচিং এর শিক্ষক জাফর কোচিং এর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ রেখে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক কাজ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। ঐ কোচিং এর বিপরীতে ডিপেনডেন্ট কোচিং ও রয়েছেন সেই কোচিং এর শিক্ষক আছির মাষ্টার, তিনিও সাংবাদিকদের আসা ঠিক পেয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এসব শিক্ষক ভাড়া করা কক্ষে ব্যাচ করে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বসিয়ে টিউশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির মাঝে রয়েছেন। সারাদেশে সরকার যেখানে, করোনাভাইরাস থেকে রেহাই পেতে স্কুল কলেজ বন্ধ রেখেছে, সেখানে দলবদ্ধভাবে কোচিং কতটা নিরাপদ তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু থাকায় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। করোনার ঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টারে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। অভিভাবকদের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালীপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতনমহলে।

কোচিং বাণিজ্য বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, জীবনের চেয়ে শিক্ষা তথা ব্যবসাকে পণ্য বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও সরকার একটি শক্ত ভূমিকা নেবে বলে আশা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম খান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ রকম একটি অভিযোগ পেয়েছি, এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারের কাছে। তদন্তে সত্যতা পেলে অবশ্যই এসব শিক্ষকদের  বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।