ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে ঢাকা ফিরছে গার্মেন্টস কর্মীরা

কঠোর লকডাউনের করনে ঈদুল আজহার ছুটির সাথে গার্মেন্টসগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। তাই পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার গার্মেন্টস কর্মীরা বাড়ি ফেরে। হঠাৎ করেই ১ আগষ্ট রবিবার গার্মেন্টস খোলার ঘোষণায় ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে তারা।

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই  চিলমারী ঘাট হয়ে ব্রহ্মপুত্র নৌ রুটে রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলা হয়ে এসব কর্মজীবীরা ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে।

যাত্রীদের চাপে আজ দিনব্যাপী ঘাট গুলোতে ছিলো মানুষের ভিড়। কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারি এলাকার গার্মেন্টস কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলা হয়ে কর্মস্থলে ফিরেছে। ঢাকার সাথে দূরত্ব কম হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর থেকে এই রুট জনপ্রিয় হয়েছে।

চিলমারী থেকে নদী পার রাজীবপুর অথবা রৌমারী হয়ে বকশিগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা ফিরতে স্বপ্ল দূরত্বের এই পথ কেই বেছে নিয়েছে কর্মজীবী এসব মানুষ।  

সকাল থেকেই কিছুক্ষন পর পর যাত্রী ভর্তি নৌকা ভিরছে রাজীবপুর নৌ ঘাটে। ঘাটে নেমে ভ্যানে আবার কেউবা পায়ে হেঁটেই রওনা হচ্ছে বটতলা বাজারের উদ্দেশ্য। সেখান থেকে সিএনজি, ট্রাক, ছোট পিকআপ ভ্যান যোগে রওনা হচ্ছে ঢাকার উদ্দেশ্য।

হঠাৎ করে গার্মেন্টস খোলার এই সিন্ধান্তে এবং গণপরিবহন না থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে সীমাহীন বিপাকে পড়ছে এসব মানুষ।

আসলাম হোসেন নামের একজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে চিলমারী থেকে ২০০ টাকা নৌকা দিয়ে নদী পার এসেছেন।ঘাটে পর্যাপ্ত রিক্সা ভ্যান না থাকায় বাধ্য হয়ে পায়ে হেটেই রওনা হয়েছেন বটতলা বাজারের উদ্দেশ্য। সেখান থেকে কোন ভাবে জামালপুর বা শেরপুর হয়ে গাজীপুর যাবেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম নামের আরও এক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি ও তার স্ত্রী দু জন সাভারের একটি গার্মেন্ট এ কাজ করেন।তাদের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। নদী পার হয়ে রাজীবপুরে এসেছেন এখন বাকি পথ কিভাবে যাবেন সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

বটতলা বাস স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতা কবির হোসেন বলেন,সকাল থেকে দলে দলে মানুষ আসছে ঢাকা যাওয়ার জন্য কিন্তু বাস নেই। তাই বাধ্য হয়ে সি এনজি, মাহিন্দ্রা গাড়ি,ছোট পিকআপ ভানে চড়েই রওনা হচ্ছে যাত্রীরা।তিনি আরও বলেন গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হলে তারা খুব সহজে ঢাকা যেতে পারত।

রাজীবপুর উপজেলার নৌকা ঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মাসুদ জানায়, সকালে থেকেই চিলমারী ঘাট থেকে নৌকা দিয়ে ঢাকার কর্মরত গার্মেন্টস কর্মীরা নদী পার পার হয়ে আসছে। প্রায় ১৫ টির মত নৌকা যাত্রী নিয়ে রাজীবপুর ঘাটে ভিরছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।