'তুমি তোমার মাকে নিয়ে ভালো থাকো'

কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘর থেকে বউ ও শাশুড়ির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ আগষ্ট) কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

এদিন সকালে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

লাশ উদ্ধার হওয়া দুই নারী হলেন উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের মৃত বসির উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন (৬০) ও তাঁর ছেলে আবদুর রহমানের স্ত্রী হিরা খাতুন ওরফে জোসনা (২২)।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার হিরা খাতুন তাঁর দুই বছরের সন্তানকে মারধর করেন। এ নিয়ে তাঁর শাশুড়ি রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তিন দিন ধরে খাওয়া বন্ধ করে বউ-শাশুড়ির অভিমান চলছিল। শুক্রবার আবদুর রহমান তাঁর মা ও স্ত্রীর অভিমান ভাঙান। পরে হিরা খাতুন অসুস্থ হলে তাঁকে পল্লিচিকিৎসক ডেকে শরীরে স্যালাইন পুশ করানো হয়। আবদুর রহমান রাতে মায়ের খোঁজ নিতে তাঁর ঘরে যান।

কিন্তু তাঁর দেখা না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শুক্রবার রাত একটার দিকে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের আড়ার সঙ্গে রোকেয়া খাতুনের লাশ ঝুলে থাকতে দেখেন আবদুর রহমান। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে তাঁর লাশ নামিয়ে মেঝেতে রাখেন। একই সময়ে অপর একটি ঘরে পুত্রবধূ হিরা খাতুনের লাশ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা হয়েছে চিরকুট। একই সময় বউ-শাশুড়ির লাশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে রহস্য দেখা দিয়েছে।

রোকেয়ার ছেলে আবদুর রহমান বলেন, বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে মায়ের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর স্ত্রীও মারা গেছেন।

হিরা খাতুনের মা রাশিদা খাতুন বলেন, চার বছর আগে মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রায়ই ঝগড়া হতো। শনিবার সকালে জানতে পারেন দুজনই মারা গেছেন। কী কারণে এমন হলো বুঝতে পারছেন না।

পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, 'পারিবারিক কলহের জেরে আবদুর রহমানের মা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছি। শাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে পুত্রবধূ মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।'

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব হাসান বলেন, খবর পেয়ে সকালে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। তবে কে আগে মারা গেছেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হিরার ঘর থেকে কিছু চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। একটি চিঠিতে স্বামীর উদ্দেশে লেখা, 'তুমি তোমার মাকে নিয়ে ভালো থাকো।' চিঠিগুলো আসলেই হিরার হাতের লেখা কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।