বগুড়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

বগুড়ার আগাম শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে নেমেছে চাষিরা। ভোর থেকে বিকেল পযর্ন্ত সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে। আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে নিতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে এমন আশায় পরিশ্রম করে যাচ্ছে কৃষকেরা। 


বগুড়া জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, জেলায় শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন সবজির ফলন পাওয়া যাবে। 


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, বগুড়ায় শীতকালীন সবজি বরাবরের মত ভালো চাষ হয়ে থাকে। গত বছর বন্যা থাকার পরেও ভালো সবজি চাষ হয়েছে। এ বছরও ভালো সবজি পাওয়ার আশায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে। এ বছর ১৮ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ফলন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। আর গত বছর সবজির ফলন হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। যা চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে।


শীতকালীন সবজি চাষ করার জন্য জমি তৈরী করতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা শীত নামার পুর্বেই বাজারে শীতকালীন সবজি নিয়ে আসে। উপজেলার এনায়েত পুর, উত্তর শ্যামপুর, মাঝপাড়া, বাকসন, জামালপুর, বারুগারী, মেদিনীপাড়া, উথলী, নারায়নপুর, রায়নগর, হরিপুর, কাজীপুর, এলাকার কৃষকেরা। শীতকালীল সবজি মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, সিম, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজ। 


উত্তর শ্যামপুর গ্রামের কৃষক জিন্নাহ বলেন, আমি ৪০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। এ বছর শ্রমিকের মজুরি একটু বেশি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে এবং দাম ভালো পাওয়ার আশা করছি।


শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মোজাহিদ বলেন, এ বছর উপজেলায় ১ এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকালীন সবজির দিকে উপজেলার কৃষকদের বিশেষ নজর থাকে। এ বছর ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছি।


বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, বগুড়ায় সবজি চাষ শুরু হয়েছে। গত বছর ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন।