বগুড়ায় মন্দির-মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ

দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বগুড়ায় মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত  বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ সভায় মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোয় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন বগুড়া জেলা প্র্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক।

বগুড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় এ পরামর্শ দেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিশেষ সভা হয়।

সভায় বিজিবি, জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সব উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও, পৌর মেয়র, আনসার  ভিডিপির কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ইসলামী ফাউন্ডেশন, ইমাম-মুয়াজ্জিন সমিতি, হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। তিনি সভায় উপস্থিত সবার সঙ্গে জেলার প‚জা চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মন্দির পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতি জোর দিতে বলেন।

হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডাঃ এনসি বাড়ই বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা রাখা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। এ জন্য তিনি প্রত্যেক মন্দির কমিটিকে এই নিয়ম মানতে বাধ্য করার বিষয়ে জেলা পুলিশকে অনুরোধ করেন।

শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক বলেন, আমাদের এলাকার ৫৯টি মন্দিরে পূজা হয়েছে। প্রত্যেক মন্দিরে পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, মন্দিরে কুরআন রেখে দাঙ্গা সৃষ্টিকে আধুনিক সাম্প্রদায়িক হামলা বলে উল্লেখ করেন। এসব দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুধু দেশে অশান্তি তৈরির জন্য এবং বঙ্গবন্ধু কন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য।
জেলা আনসার ও ভিডিপির সিএ মোহাম্মদ হাসেম বলেন, স্ট্যাটিক ডেপ্লয়েড হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার সদস্যরা কাজ করেছে। প্রতি পূজামণ্ডপে অনন্ত দুই জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

নওগাঁ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ রেজাউল কবির বলেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করাই বিজিবির কাজ। পূজার সময় বাংলাদেশে প্রথম বগুড়ায় আমরা বিজিবি ডেপ্লয়েড করি। রাতের মধ্যে নন্দীগ্রাম ও গাবতলী উপজেলায় বিজিবি সদস্যরা পৌঁছে যান।

জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী (বিপিএম সেবা) বলেন, স¤প্রতি বগুড়ার সাবগ্রাম সার্বজনীন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙ্গা বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা বলে উল্লেখ করেন দেশে পূজার সময় কোনো ব্যতয় ঘটেনি এমন একটি জেলা বগুড়া। প্রত্যেকে আনন্দের সঙ্গে উৎসব করেছে। কোনো আতঙ্ক ছিল না। তবে দূর্গাপূজা শেষ হওয়ার পরেই লক্ষীপূজায় যে ঘটনা হয়েছে, তা বিচ্ছিন্ন বিষয়। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। সভায় গোয়েন্দা দপ্তর, নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারাসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।