মহাসড়ক না মাটির রাস্তা বোঝা দায়!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর বঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ সড়ক কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া -ঈশ্বরদী মহাসড়ক। এই দুটি প্রধান মহাসড়ক যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের টনক নড়েনি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ গাফিলতির কারণেই সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে এই সড়ক দু'টি চেনার উপায় নেই। এই সড়কেই রয়েছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ছোট ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, ছোট বড় হাট বাজার।  সড়কটি দিয়ে প্রতি মিনিটে ৪০টি ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে।

মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়লেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের টনক নড়ছে না। এরপর আবার শুস্ক সময়ে মহা সড়কটি দিয়ে যান চলাচলসহ সাধারণ মানুষও চলাচল করতে পারছে না। ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। ধুলার কারনে রাস্তায় চোখ পড়ছে না।  ঘটছে ছোট বড় সড়ক দূর্ঘটনা। সড়কের এক একটি গর্ত যেন পুকুরে পরিনত হয়েছে। এর পরও ঝুঁকি নিয়েই চলছে ছোট বড় ভারী যানবাহনগুলো । যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল দেখলেই মনে হচ্ছে এই বুঝি উল্টে গেল। সবার মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ভালো করতে হলে একটু কষ্ট করতেই হবে। বৃষ্টির কারণেই রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে। দ্রুতই তা ভালো হয়ে যাবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে,  কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি তিনটি প্যাকেজে কাজ চলছে। এর মধ্যে ২টি প্যাকেজ ১৮ কিঃ মিটার রাস্তা নির্মান কাজ করছে জহিরুল লিমিটেড ও ১টি প্যাকেজ প্রায় সাড়ে ৬ কিলামিটার নির্মান কাজ করছে রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিঃ। জহিরুল লিঃ গত এপ্রিল ২০২১ ও নভেম্বর ২০২০ কার্যাদেশ হাতে পায় এবং রানা বিল্ডার্স প্রাঃ লিঃ গত ১১ নভেম্বর ২০২০ কার্যাদেশ পেলেও সড়কের কাজ চলছে ঢিলেঢালা। ২৪,৮৩২ পয়েন্ট ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কাজ দেখে কুষ্টিয়াবাসী হতাশ হয়েছে।

অপর দিকে, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহা সড়কটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। তবে সড়ক বিভাগ দায়সারা মহাসড়কের উপর ইটের ছলিং বিছিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলেও মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থান জিকে ক্যানেলর মত হয়ে গেছে। ফলে এই সড়কটি চেনার উপায় নেই। তবে রাস্তার ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী লোড গাড়ী চলার কারনেই মহাসড়কটি চলাচলের অনুপাযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্র জানায়, অচিরেই রাস্তা ভালো হয়ে যাবে।

ছোট যান অটো বাইক চালক সাইফুল বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে অটো বাইক উল্টে পড়ছে।

ট্রাক চালক রফিকুল বলেন, প্রতিদিন কুষ্টিয়া - ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে কাচাঁমাল নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে হয়। এই রাস্তা খানাখন্দে ভরে পুকুর হয়ে গেছে। যে কারনেই মালামাল নিয়ে চলাচল করতে পারছি না। প্রতিদিনই গাড়ী ভেঙ্গে পড়ছে। এতে করে মালিকদের যেমন লোকসান গুনতে হচ্ছে তেমনি আমরাও কর্মহীন হয়ে পড়ছি।

কুষ্টিয় জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্র সাহা বলেন, কুষ্টিয়ার সড়কের বেহাল দশা নিয়ে আমরা ট্রাক মালিক গ্রুপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানিয়েছি । আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়াকেও জানিয়েছি, তারপরও রাস্তা নির্মান কাজ চলছে ধীরগতিতে। এভাবে চললে যেকোন মুহূর্তে আমরা দক্ষিন বঙ্গের সাথে উত্তর বঙ্গে ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিবো। আমরা আর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারছি না।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনও এই দুটি মহাসড়ক দ্রুত নির্মান করার তাগিদ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়া দ্রুতই মহাসড়ক ২টি দ্রুতই নির্মান কাজ শেষ করবেন এ প্রত্যাশা এখন কুষ্টিয়াবাসীর।