সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: হতাহতদের ৭৯ পরিবার পেলেন ৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ৭৯ পরিবারকে ৫ কোটি টাকা দিয়েছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের প্রত্যেকের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা, নিহত শ্রমিক ও চালকসহ অন্যদের পরিবারকে ১০ লাখ, অঙ্গ হারানো ব্যক্তির পরিবারকে ছয় লাখ এবং সাধারণ আহতদের চার লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।


সোমবার (২০ জুন) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হতাহত পরিবারের সদস্যদের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান।


অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিহত ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা, নিহত শ্রমিক ও চালকসহ অন্যদের পরিবারকে ১০ লাখ এবং অঙ্গ হারানো ব্যক্তির পরিবারকে ছয় লাখ টাকা, সাধারণ আহতদের চার লাখ টাকা দেওয়া হয়।


যাদের মরদেহ এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি, সেই সব পরিবারকে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করার পর সহায়তার অর্থ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।


এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চসিকের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিএম কনটেইনার ডিপোর পরিচালক শফিকুর রহমান, স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।


অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বিএম ডিপোর ঘটনার পর শুধু প্রশাসন নয়, চট্টগ্রামের জনসাধারণ মানুষ একযোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। চট্টগ্রামকে যে ‘বীর চট্টলা’ বলা হয়, এর মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করেছে পুরো চট্টগ্রামবাসী।


তিনি বলেন, বিএম ডিপোতে রাত ৯টায় আগুন লাগে। রাত পৌনে ১০টায় বিএম ডিপোর ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে নির্দেশনা দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ সবাইকে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কারণেই এতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।


বিএম ডিপোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোর দুর্ঘটনায় নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। তারা শহীদ হয়েছেন। এতো বড় একটি দুর্ঘটনার পড়েও বিএম ডিপো হতাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। সবার সহযোগিতায় বিএম ডিপো আবারো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে।