চট্টগ্রামে একদিনে করোনা সংক্রমণ দ্বিগুণ

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে দ্বিগুণ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে করোনায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।


মঙ্গলবার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


উল্লেখ্য, এর আগের দিনও ৯৩৭ নমুনা পরীক্ষায় কোভিডে আক্রান্ত চিহ্নিত হন ৬৬ জন। তবে সংক্রমণ হার ছিলো ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।


সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, নগরীর বারো ল্যাবরেটরি ও এন্টিজেন টেস্টে গতকাল ৪৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন আক্রান্ত ৬৬ জনের মধ্যে শহরের ৬১ ও তিন উপজেলার ৫ জন। উপজেলার ৫ জনের মধ্যে হাটহাজারী ও আনোয়ারায় ২ জন করে এবং পটিয়ায় একজন রয়েছেন। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৮ জনে। এর মধ্যে শহরের ৯২ হাজার ৫১০ এবং গ্রামের ৩৪ হাজার ৫৬৮ জন। গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬২ জনই রয়েছে। এতে শহরের ৭৩৪ ও গ্রামের ৬২৮ জন।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে গতকালও সবচেয়ে বেশি ১২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে শহরের ৩ ও গ্রামের একজনের সংক্রমণ ধরা পড়ে।


ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৮৪টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ২২টিতে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ৫৯ জনের নমুনায় শহরের ৯ ও গ্রামের একজন পজিটিভ শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় গ্রামের একজন সংক্রমিত মিলেছে। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ ১২ নমুনার ৪ টিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।


বেসরকারি পরীক্ষাগার ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩৯ নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১০ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়। শেভরনে ২৭ জনের নমুনায় শহরের ৫টির রেজাল্ট পজিটিভ হয়। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১৩টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৩টিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১৬ জনের নমুনার মধ্যে একজনের শরীরেও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। এপিক হেলথ কেয়ারে ৩৭ জনের নমুনায় শহরের ৩ জনের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। ল্যাব এইডে একমাত্র নমুনাটির ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া যায়। মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১২টি নমুনার মধ্যে শহরের ২টি আক্রান্ত চিহ্নিত হয়। এভারকেয়ার হসপিটাল ল্যাবে ১২ জনে একজন ভাইরাসবাহকও শনাক্ত হয়নি।


নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২৫ জনের এন্টিজেন টেস্টে গ্রামের ২ জন সংক্রমিত বলে জানানো হয়।


ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ, বিআইটিআইডি’তে ২৬ দশমিক ১৯, চমেকহা’য় ১৬ দশমিক ৯৫, সিভাসু’তে ৫, আরটিআরএলে ৩৩ দশমিক ৩৩, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২৫ দশমিক ৬৪, শেভরনে ১৮ দশমিক ৫২, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ২৩ দশমিক ০৭, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ০, এপিক হেলথ কেয়ার ৮ দশমিক ১১, ল্যাব এইডে ০, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১৬ দশমিক ৬৬, এভারকেয়ার হমপিটাল ল্যাবে ০ শতাংশ এবং এন্টিজেন টেস্টে ৮ শতাংশ সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়।