শিক্ষক হেনস্থার বিচার দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ

সাভারে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা এবং নড়াইলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্থায় জড়িতদের বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


২৮ জুন, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূটির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সমাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন অংশ নেয়।


এসময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক নির্যাতনে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।


ইভটিজিংয়ের ঘটনায় শাসন করায় ২৫ জুন, শনিবার সাভারের আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু।


অন্যদিকে, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনায় থাকা ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ফেসবুকে এক ছাত্রের পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ স্বপন ‍কুমার বিশ্বাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্থা করা হয়।


এরই প্রেক্ষিতে সমাবেশে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, আমি শিক্ষক হিসেবে এখানে বক্তব্য দিচ্ছি, আমি জানিনা আমি কতটুকু নিরাপদ। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করছি। কারণ আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী। সনাতন ধর্মের প্রত্যেকটি শিক্ষক আজ এরকম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।


তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতাকে যদি শেকড় থেকে তুলে না আনা যায়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। এই বাংলাদেশ হয় পাকিস্তান হবে, নয় আফগানিস্থান হবে। এখনই সময় এর রশ্মি টান দিয়ে ধরতে হবে। এর সাথে যে কুচক্রী মহল যুক্ত আছে, তাদের চিনহিৃত করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। উন্মুক্ত রাস্তায় জনসম্মুখে তাদের বিচার করা উচিত। তাহলেই শিক্ষা হবে।


এছাড়াও শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নিরবতার সমালোচনা করে অচিরেই ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার আহ্বান জানান অধ্যাপক মিহির লাল সাহা।


সমাবেশে জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সভাপতি কাজল দাস বলেন, যে প্রজন্ম শিক্ষককে জুতার মালা গলায় পরায়, যে প্রজন্ম শিক্ষককে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে, সেই প্রজন্মের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। যে প্রজন্ম এখন শিক্ষা-দীক্ষা ও গবেষণায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেই শিক্ষার্থীরা আজ ইয়াবা, নেশায় আসক্ত হয়ে শিক্ষকদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ না জানানোর সমালোচনা করে কাজল দাস বলেন, আজকে আমরা লজ্জিত। যেখানে শিক্ষক সমাজ এখানে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে আমরা দাঁড়িয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা এই সাম্প্রদায়িকাকে কখনো মেনে নেয়নি, মেনে নেবে না। যেকোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।


জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মন বলেন, যে শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড, স্ট্যাম্পের আঘাতে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। আমরা দেখছি, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে নিরীহ প্রাণী শিক্ষক। ‍আজকে তারা মন খুলে পড়াতে পারেন না। মনের ভাব প্রকাশ করতে গেলে, কথিত ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিয়ে হয় গণপিটুনি খেতে হয়, নতুবা জেলে যেতে হয়। এই বিষ দাঁত আমাদেরকে ভেঙে দিতে হবে। যেভাবে পারি, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।