প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র বাকি আছে ৬ দিন। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শালিখার প্রতিমা তৈরির কারিগররা।


আগামী ১ অক্টোবরে ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। ৫ অক্টোবর দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি পূজামণ্ডপে দেবীদূর্গা ও তার বাহন সিংহের প্রতিমাসহ তৈরি করা হয়েছে মহিষাসুরের প্রতিমা। এছাড়াও দেবী লক্ষ্মী,সরস্বতি,দেব কার্তিক, গনেশ ও তাদের বাহন ইঁদুর,হাঁস আর ময়ূর। সবার উপরে রেখেছে মহাদেবের প্রতিমা,সর্বক্ষণ প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্তসময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা।


শালিখা উপজেলার দরিশলই গ্রামের মৃৎশিল্পী (ভাষ্কর) নির্মল কুমার পাল জানান, কয়েক মাস ধরে তারা দেবীদূর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। শুধু জীবিকার জন্য নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমার মূর্তি তৈরিতে রয়েছে তাদের শিল্প সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভুতি ভক্তি আর ভালোবাসা। মৃৎশিল্পী নির্মল কুমার আরো বলেন, দুর্গোউৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর সাত থেকে আটটি প্রতিমা তৈরি করেন তিনি। কিন্তু এবার রং ও সাজসজ্জার দাম বাড়ার কারণে পুজামন্ডপের সংখ্যা কম হলেও তিনি উপজেলার দরিশলই, শতখালীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার মাঝাইল,খাজুরা,নারিকেলবাড়ীয়া মোট ৬টি পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন।


মৃৎশিল্পীরা আরো জানান, দুর্গাপূজার দুইমাস নাওয়া- খাওয়ার সময় থাকে না। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার প্রতিমার অর্ডার অনেক বেশি। কাজের চাপও বেশি। অন্যবার করোনার কারণে কম মন্দিরে পূজা হয়েছে। কিন্তু এবার প্রত্যেকটা মন্দিরে দুর্গাপূজা হচ্ছে। যার ফলে কাজের চাপও বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজ ৮০ শতাংশ হয়েছে বলে জানান তারা।


শালিখা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সীতান চন্দ্র বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৬২ টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।