প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ধুকুন্ধি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে পিকনিকের টাকা যোগাতে পুরনো খাতা বিক্রির নামে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য আনা ২০২১-২০২২ সালের পাঠ্যবই ট্রাক ভর্তি করে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।


শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, আমি কখনোই বই বিক্রির পক্ষে নই। প্রধান শিক্ষক নির্দেশ দিলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।


খবর পেয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আব্দুল্লা আল জাকী'র তাৎক্ষণিক নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা জান্নাত তাহেরা এর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একটি সচেতন মহল জানান, বই বিক্রি হয়েছে গত ২২ নভেম্বর ৩টায় স্কুল ছুটি দিয়ে। আমাদের ক্রয়-বিক্রয় কমিটি আছে। এর আহ্বায়ক সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন।তিনি এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।


ক্রয়-বিক্রয় কমিটির আহ্বায়ক সহকারী প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন সাহেবের মুঠো ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।


এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান মনির এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর পিকনিকে যাওয়ার জন্য পুরাতন খাতা বিক্রি করে থাকি। এবারও সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। কোন পাঠ্যবই বিক্রি করা হয়নি। তবে খাতার সাথে অতি পুরাতন বই হয়তো অল্পসল্প বিক্রি হতে পারে। বিক্রির সময় আমি তখন স্কুলে ছিলাম না।"তবে ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির ও ধর্মীয় শিক্ষক মৌলভী ওমর ফারুক দাঁড়িয়ে থেকে ট্রাকে বই লোড করার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


এলাকাবাসী জানান, এর আগে স্কুলের উন্নয়ন কাজে আনা হাজার হাজর টাকার রড প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন।


বই বিক্রির ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব গৌতম চন্দ্র মিত্র এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বই বিক্রি করার কোন অনুমতি নেই। যদি কেউ বই বিক্রি করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়,তাহলে তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা এর আগে গত মে মাসে চিঠি দিয়ে জেলার প্রত্যেক স্কুলের প্রধানকে জানিয়ে দিয়েছিলাম অতিরিক্ত বই যেন তারা ফেরৎ দিয়ে দেন।


এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আব্দুল্লা আল জাকী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিষয়টি তদন্ত করা হবে, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।