ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা হিলি, বিপাকে নিন্ম আয়ের মানুষ

দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর হিলি উপজেলা কুয়াশার চাদরে ঢেকে রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রাস্তাঘাট ফাঁকা, যানবহন চলাচল কমেছে। এতে বিপাকে পড়েছে নিন্ম আয়ের মানুষ। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।


মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) মাঘের শুরুতে হঠাৎ করে হাকিমপুর হিলি উপজেলা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। বেলা ১১টায় সূর্যের দেখা মিলেছে। রাস্তাঘাটে ভারি যানবাহসহ মোটরসাইকেল হেড লাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।


হিলি-বগুড়া রুটের বাসচালক রকি মিয়া বলেন, তিন চারদিনের মধ্যে আজ হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেশি। রাস্তাঘাটে তেমন মানুষজন নাই। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বগুড়া থেকে হিলি গাড়ি চালিয়ে আসলাম। গাড়িতে যাত্রী নেই বললেই চলে। হিলি থেকে বগুড়া যেতে গাড়িতে যে গ্যাস লাগছে অনেক সময় সেই টাকাও পাচ্ছি না।


রিকশাচালক এমদাদুল হক বলেন, বেশ কিছু দিন থেকে শীত পড়েছে। তবে আজকে মনে হচ্ছে তিন চারদিনের তুলনায় শীত বেশি। পেটের ক্ষুধা তো আর শীত গরম বোঝে না। তাই তীব্র শীত উপেক্ষা করে ১২ কি. মি. দূর থেকে হিলি শহরে রিকশা নিয়ে আসছি। ঘন কুয়াশা আর শীতের জন্য যাত্রী তেমন নাই। বসে আছি। এখন প্রায় ১১টা বাজে। মাত্র ৪০ টাকা ভাড়া মেরেছি।


হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার দাস বলেন, বেশ কিছু দিন থেকে সীমান্তবর্তী হাকিমপুর হিলিতে শীত বেড়েছে। আজকে একটু শীতের তীব্রতা বেশি মনে হচ্ছে। সেই সাথে শীত জনিত জ্বর, সর্দি কাশি, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। আর এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। আমরা সবসময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, কোনোভাবেই শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা লাগানো যাবে না। প্রয়োজন ছাড়া তাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


এদিকে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল একই সময় তাপমাত্রা ছিলো ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৯৪ শতাংশ।