তিন বেলা পেট ভরে খেতেও পারতেন না রাজকুমার

বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেতা রাজকুমার রাও। সম্প্রতি তিনি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। তবে এই রাও একসময় তিন বেলা খেতেও পাননি।

রাজকুমার নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। তিনি বলেন, এক মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। এক সময় এমন হয়েছিল স্কুলে ফিস দেওয়ার মতো পয়সা ছিল না। পাক্কা দু’বছর স্কুলের শিক্ষকরা আমার মাইনে দিয়ে গিয়েছেন।

বলিউডে পা রাখার আগের গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন স্বপ্ননগরীতে (মুম্বই) পা রাখলাম, ঠাঁই হয়েছিল খুব ছোট্ট একটা ঘরে। ভাড়া ছিল ৭০০০ টাকা। ওই সময় ৭০০০ টাকাটাও আমার কাছে বড় বেশি ছিল। ঠিক সেই সময়েই ফোনে একটা নোটিফিকেশন ঢুকল। তাতে লেখা, অ্যাকাউন্টে ১৮ টাকা পড়ে রয়েছে। খাওয়ার জন্য পয়সা থাকত না । মাঝে মধ্যে আধপেটা খেয়েও কেটেছে দিন। কিন্তু স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেইনি।

রাজকুমার আরও বলেন, অডিশনে পরার জন্য ঠিকঠাক পোশাক কেনার পয়সা ছিল না। শুধু পয়সা নয়, ছিল না ফ্যাশনের ন্যুনতম জ্ঞানটুকুও।

তাঁর এক বন্ধু ছিল, নাম বিনোদ। তিনি আর রাজকুমার বাইকে করে বেরিয়ে পড়তেন অডিশন দিতে, এ প্রযোজক থেকে সে প্রযোজকের দরজায় দরজায়। সাজ বলতে ওই একটা ফ্যাকাশে টি-শার্ট। গোলাপ জল কিনেছিলেন, তাই দিয়েই অডিশনে ঢোকার আগে মুখে ছিটিয়ে নিতেন দু’জনে। ভাবতেন, ওতেই বুঝি কেল্লাফতে।

এ ভাবেই দারিদ্র্যের সঙ্গে যুঝতে যুঝতে একদিন শিকে ছেঁড়ে রাজকুমারের কপালে। মেলে প্রথম ব্রেক।  ‘কাই পো চে’-র পর থেকেই আসতে থাকে একের পর অফার। ‘কুইন’, ‘সিটিলাইট’, ‘বরেলি কি বরফি’ রাজকুমার আর রাজকুমার নেই, তিনি এখন সম্রাট। যার রাজ্যপাট দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। প্রথম সারির অভিনেতার দলে জায়গা করে নিয়েছেন অচিরেই।