মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের প্রয়াণের ২ বছর

বাগেরহাটের মোংলায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা 'ফাদার মারিনো রিগন'র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে রবিবার সকালে শেহলাবুনিয়ার ক্যাথলিক গীর্জার সম্মুখে রিগনের সমাধীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার মারিনো রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও মোংলা পোর্ট পৌর কর্র্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পরে শেহলাবুনিয়া মিশন হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র জুলফিকার আলী, মোংলা কলেজ'র সাবেক প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বিশ্বাস, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, সেন্ট পলস উ"চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হাওলার, ফাদার মারিনো রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন'র সভাপতি সুবাশ বিম্বাস ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট'র সভাপতি নুর আলম শেখ প্রমুখ।

এদিকে, রিগন স্মরণে রবিবার ভোরে সেন্ট পলস ধর্ম পল্লীর আয়োজনে শেহলাবুনিয়া ক্যাথলিক গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, শিক্ষানুরাগী, অনুবাদক, কবি ও সাহিত্যিক ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভিল্লাভের্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ ধর্মযাজক তার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটান বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মোংলার শেহলাবুনিয়া পল্লীতে।

শেহলাবুনিয়া থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ইতালিতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর ফাদার রিগনের মরদেহ ইতালি থেকে এনে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

ফাদার রিগন ইতালি নাগরিক হলেও বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে তাঁকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেন। এছাড়া ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

লালনের সাড়ে তিনশো গান, গীতাঞ্জলিসহ রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং কবি জসিম উদ্দিনের নক্সীকাঁথার মাঠ, নির্বাচিত কবিতা, সুজন বাদিয়ার ঘাট ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যে উচ্চ আসনে আসীন হয়ে আছেন ফাদার মারিনো রিগন।