তারামন বিবির চলে যাওয়ার ১ বছর

আজ ১ ডিসেম্বর, বীরপ্রতীক তারামন বিবির ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কাচারিপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন অদম্য সাহসী এই নারী মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই পর্যন্ত করেছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে অনেকটা আড়ালেই থেকে যান এই নারী মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যাপক বিমল কান্তি দে, কুড়িগ্রামের সাংবাদিক পরিমল মজুমদার এবং রাজীবপুর উপজেলার অধ্যপক আব্দুস সবুর ফারুকী খুঁজে বের করেন এই নারী মুক্তিযোদ্ধাকে। ওই বছরই সরকার বীর প্রতিক খেতাবে ভূষিত করে তারামন বিবিকে।

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাঠি ইউনিয়নের কাছারিপাড়ার শংকর মাধবপুর গ্রামে তারামন বিবির জন্ম। শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তারামন বিবিকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয় ১৯৯৫ সালে। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

আমাদের কু‌ড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানিয়েছেন দিনটিতে গ্রামের বাড়িতে এই বীর প্রতীকের স্মরণে কোরআন খতমসহ মিলাদ ও দোয়া মাহ‌ফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের মায়ের প্রথম মৃত্যুবা‌র্ষিকীতে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রশাসন থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মায়ের দাফনের পর থেকে সরকা‌র কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ করা হয়‌নি। এমন‌কি মায়ের কবর‌টিও আমরা পা‌রিবা‌রিক উদ্যোগেই সংরক্ষণ করছি।’