সব্যসাচী লেখক শামসুল হকের জন্মদিন আজ

নানা আয়োজনে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮৪তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে কুড়িগ্রামে।  

জন্মদিন উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তার সাহিত্য কর্মকে স্মরণীয় করে রাখতে তার সমাধিস্থলের পাশে দিনব্যাপী কবি শামসুল হক মেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, স্বল্প পরিসরে কবির সমাধীক্ষেত্রে বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারে ৪টি স্টলে অন্যান্য লেখকের পাশাপাশি লেখকের বিভিন্ন বইয়ের পসরা সাজানো রয়েছে ।

১৯৩৫ সালের এই  দিনে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। খ্যাতিমান এই লেখক ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে তিনি জীবনের শেষ কয়েকটা দিন দেশের মাটিতে কাটানোর জন্য লন্ডনের হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছিলেন। তার ইচ্ছানুযায়ী নিজের জন্মস্থান কুড়িগ্রামের শহরের সরকারি কলেজের মূল ফটকের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

বাংলা সাহিত্যের সব শাখায় সমানভাবে পদচারণার জন্য সৈয়দ শামসুল হককে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন।

১৯৫০ এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস 'দেয়ালের দেশ'।  তার অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, বারো দিনের শিশু, তুমি সেই তরবারি, কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন ও নির্বাসিতা।সৈয়দ হকের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে একদা এক রাজ্যে, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, পরানের গহীন ভিতর, অপর পুরুষ, অগ্নি ও জলের কবিতা। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ও নুরুলদীনের সারাজীবন তার বিখ্যাত কাব্যনাট্য।