এই খুশির দিনে কবি নজরুলের জন্মদিন

'ও মন রমজানের রোজার শেষে এল খুশির ঈদ...’

কাকতালীয়ভাবে গানটির স্রষ্টা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ, জনম ‘বিদ্রোহী’, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনও আজ; ১২১ তম জন্মদিন।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। যেখানেই অন্যায়-অবিচার, সেখানেই কবির কলম হয়ে উঠেছে খাপছাড়া তলোয়ার।

বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে যখন নজরুলের শৈশব, কৈশোর অতিক্রান্ত হচ্ছিল উপমহাদেশে, তখন স্বাধীনতা আন্দোলন ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সংগ্রাম চলছিল।

অপর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন তারই প্রতিফলন আমরা পাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সংগ্রাম ও কর্মে। 

“অসামান্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুলের আজীবন সাধনা ছিল সমাজের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি এবং মানুষের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন। তার সাহিত্যকর্মে উচ্চারিত হয়েছে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের বাণী। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাবা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকার তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

কবি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ইন্তেকাল করেন।

কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

গান, কবিতা, উপন্যাস সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় ছিল কবি কাজী নজরুলের সমান পদচারণা। অসংখ্য রচনায় বাংলা সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ।

বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে এবার তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। তবে রেডিও, টেলিভিশন, দৈনিক সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও প্রকাশ করছে।