নারী জাগরণের অগ্রদূত কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন

মর্জিনা খাতুন। নারী জাগরণের একজন অগ্রদূত। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চার দেয়ালে বন্দী থাকা নারীদের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আলোর দিশারী হয়ে উঠেছেন তিনি। মর্জিনা খাতুন শুধু একজন ব্যক্তিই নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। সাঁতারে তার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাঁতারু হয়েছেন।

অনেক নারী সাঁতারু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, আনসার এবং বিজেএমসিতে চাকরি করছেন। ১৯৮৪ সালে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় ভাই বাংলাদেশ সুইমিং ফেড়ারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাঁতার কোচ আমিরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় সাঁতারু হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিযোগিতা’য় নাম লেখান। ফ্রি স্টাইল ও ব্রেস্ট স্ট্রোক সাঁতারে কৃতিত্বও দেখান।
পরে তিনি সাঁতার ছেড়ে অ্যাথলেটিক খেলায় সম্পৃক্ত হয়ে সেখানেও দেশসেরা সাফল্য অর্জন করেন। হাইজাম্প, সটপুট, ডিসকাসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে পুরো দস্তুর অ্যাথলেট মর্জিনা হিসেবেই এলাকায় তার ব্যাপক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়াও তিনি হ্যান্ডবল, ভলিবল ও ফুটবলও খেলেছেন।

মর্জিনা খাতুন ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর খেলোয়াড় জীবনে জাতীয় পর্যায় থেকে ৩৭টি স্বর্ণপদক জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখান। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের মোচাইনগর গ্রামের শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মধু মন্ডল ও বারজান বেওয়ার মেয়ে। মর্জিনা খাতুন একাধারে ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কোচ, রাজনৈতিক নেত্রী, সফল গৃহিণী ও একজন সফল মা।

কোথায় নেই তার পদচারণা। একই অঙ্গে এত রূপ থাকা মানুষটি বর্তমানে মিরপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খেলোয়াড় জীবন শেষে ২০০৬ সালে ইসলামিক স্টাডিস বিষয়ের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে মর্জিনা খাতুন খেলোয়াড় কোটায় বিজেএমসি, বাংলাদেশ আনছার বাহিনী এবং শেরাটন হোটেল ও গুলশান ক্লাবে সাঁতার ট্রেইনার হিসেবে চাকরি করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌরসভার সুইমিং ট্রেইনার হিসাবে কর্মরত আছেন।

১৯৯০ সালে এলাকারই আরেক কৃতি ফুটবলার আনোয়ার হোসেন বুড়োর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে মর্জিনা ছেলে আসিফ রেজা (২৫) ও মেয়ে খাদিজা আক্তার বৃষ্টির (১৭) মা। ছেলে আসিফ রেজা নৌবাহিনীর পেটি অফিসার হিসাবে কর্মরত। এদিকে মেয়ে খাদিজা আক্তার বৃষ্টি বিকেএসপির সাঁতার ক্যাডেট হিসাবে অধ্যায়নরত। খেলোয়াড় মর্জিনা খাতুনের নাম ডাক যখন তুঙ্গে, তখন ১৯৯১ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি মিরপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ছিলেন।