কাঁচা আদা খাওয়ার যত উপকারিতা

ওষধি গুনাবলী সম্পন্ন মসলাগুলোর তালিকা তৈরী করা হলে নিঃসন্দেহে সেখানে আদার নাম তালিকার প্রথম দিকেই থাকবে। মানুষ একে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের ঘরোয়া উপাদান হিসেবে বহুকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে। আদাতে আছে শক্তিশালী এন্টি-এক্সিডেন্ট, এন্টি-ইনফ্লামেটরী ও আরো অনেক উপকারী ভেষজ উপাদান।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে ৩০ দিন একটানা আদা খাওয়ার কিছু উপকারিতার কথা। চলুন জেনে নেই আদার নানা উপকার।

হজমের সমস্যা রোধে

আদার মধ্যে ডাইজেসটিভ ট্রাক্টের প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। এটি পাচক রস নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানি খুব সহজে পেটে নড়াচড়া করতে পারে।

বমি রোধে

গর্ভাবস্থায় বমি কমাতে আদা খুব উপকারী। এ ছাড়া মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধেও এটি কার্যকর।

ব্যথা কমাতে

পেশি ব্যথায় আদা কার্যকর। আদা ২৫ ভাগ পেশির ব্যথা কমাতে কাজ করে।

প্রদাহ প্রতিরোধে কাজ করে

২৪৭ জনের একদল লোকের ওপর একটি গবেষণা করে দেখা গেছে, আদা খুব দ্রুত গাঁটের ব্যথা কমায় এবং গাঁটের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে

৮৫ জনের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

প্রতিদিন মাত্র ২ গ্রাম আদার গুঁড়ো ১২ সপ্তাহ ধরে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে। পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে ১০ ভাগ।

আদা ক্যানসাররোধী

আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

আদার জিনজেরল উপাদান ইনসুলিন উৎপাদনকে সক্রিয় করে এবং এভাবে এটি প্রাকৃতিকভাবে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এটি শুধু ডায়াবেটিস দমন করে না বরং প্রতিরোধ করে, এবং ডায়াবেটিসের কারণে ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি দেখা দিলে তারও সমাধানে সাহায্য করে।

ঠান্ডা, সর্দি কাশি ও গলা ব্যথা

আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত ঠান্ডা অথবা জ্বর হলে অথবা খুশখুশে গলা ব্যথা হলে গরম পানিতে আদার রস, মধু, লেবু ও গোলমরিচের গুঁড়ার সাথে মিলিয়ে খেলে দ্রুত উপশম হয়।  
মস্তিষ্কের কার্যক্রম ভালো করে

আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান মস্তিষ্কের অকালবার্ধক্য কমায়। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।