শরীরে র‌্যাশ বা ফুসকরি পড়লে যা করবেন

যেকোনো বয়সেই ত্বকে র‍্যাশ বা লালচে ফুসকুড়ি উঠতে পারে। ত্বক পুড়ে গেলে বা অ্যালার্জির উদ্রেক করে এমন কিছুর সংস্পর্শে আসলে, খাবারে অ্যালার্জি, অটোইমিউন ডিজিস, ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেই র‍্যাশ উঠতে পারে। এর মধ্যে কিছু কিছু র‍্যাশ নিয়ে চিন্তার কারণ না থাকলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে র‍্যাশের চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে।

প্রথমেই জেনে নিন র‍্যাশ কি?

র‍্যাশ হলে সাধারণত আঁচের মতো , ঘামাচির মতো হয়। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল র‍্যাশ, এলার্জিক র‍্যাশ, অটো ইমিউন র‍্যাশ হতে পারে। এই সমস্যা ছোট-বড় সবারই হতে পারে।

যে কারণে হয়

ত্বকে র‍্যাশ ওঠার সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হলো খাদ্যের অ্যালার্জি। খাদ্যের অ্যালার্জি গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যাসহ র‍্যাশ উঠতে পারে। এতে ত্বক লালচে হয়ে চুলকাতে পারে।

অন্যান্য ওষুধ খাওয়ার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ত্বকে র‍্যাশ উঠতে পারে। এ ধরনের র‍্যাশকে বলে ড্রাগ ইরাপশনস। অন্য কোনো চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় এমন র‍্যাশ উঠলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যান।

অনেক সময় আমাদের নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমই আমাদের ত্বক বা অন্য কোন টিস্যুকে আক্রমণ করে।। এ ধরনের সমস্যাকে অটোইমিউন ডিজিস বলে। ফলে ত্বকে র‍্যাশ উঠে এবং চুলকানি হয়। নাকের দুই দিকে প্রজাপতি আকৃতির এমন লালচে র‍্যাশ ওঠাও অটোইমিউন ডিজিজের লক্ষণ।

বেশ কিছু রোগ আছে যার সংক্রমণ ঘটলে দেহে র‍্যাশ উঠতে পারে। জীবাণুর সংক্রমণে এমন র‍্যাশ ওঠার সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণটি হলো চিকেন পক্স। এ ছাড়া ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের ফলেও র‍্যাশ ওঠে।

আপনার ত্বকের জন্য স্পর্শকাতর যেকোনো কিছুর ছোঁয়ায় অ্যালার্জি আকারে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। অনেকের ত্বকে গোসলের সাবানেও অ্যালার্জি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে এদের থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

করণীয়

জীবনযাপনে একটু সাবধান হলে এই র‌্যাশ ওঠা কমিয়ে আনা বা সারিয়ে তোলা যায়। এ জন্য প্রতিদিন নিয়মিত গোসল করতে হবে। গরমের সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে এবং শীতের সময় উঠলে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে।

র‌্যাশ উঠলে অনেক ক্ষেত্রে ত্বক চুলকায়। এই চুলকানি কমাতে শসাকে পাতলা করে কেটে তা আক্রান্ত ত্বকে কয়েক মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে।

আরেকটি উপায় হলো টক দই ও নিমপাতার পেস্ট। এটি খুবই উপকারী। সামান্য নিমপাতা বেটে টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত ত্বকে গোসলের আগে আধাঘণ্টা মাখিয়ে রাখতে হবে। আরো ভালো উপকার পেতে দই ও নিমপাতার পেস্টের সাথে কাঁচা হলুদ ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন।

র‌্যাশের সমস্যায় আরো ভালো একটি প্রাকৃতিক উপাদান হলো যব। এ জন্য এক বালতি পানিতে দুই কাপ পরিমাণ যবচূর্ণ গুলিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। এটি ত্বক ও ত্বকে র্যাশ সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো ধ্বংস করে দেয়। ইন্টারনেট।