গরম পড়লেই কী করোনা কমবে ?

ব্যাপক মৃত্যুর হুমকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা। চীন, ইতালি, ইরান, স্পেনসহ কিছু কিছু দেশ ও অঞ্চলে এর প্রকোপে মৃত আর আক্রান্তের মাত্রা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আগামীতে বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস এরকম মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ১৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ গেছে একজনের। এমন অবস্থায় আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশজুড়ে। তবে অনেকেই বলছেন গরম পড়তে শুরু করলে কমবে করোনার প্রকোপ। কিন্তু কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গরম পড়লেই যে লেজ গুটিয়ে পালাবে মারণ করোনার জীবাণু, সে বিষয়ে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। আপাতত সচেতনতাই করোনার সংক্রমণ এড়িয়ে চলার প্রথম ও একমাত্র পথ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চিকিৎসা গবেষক নেলসন মাইকেল বলেন, এটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস এবং এগুলো ঠান্ডা আবাহওয়ায় নির্দিষ্ট কারণে আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। শীতে আমরা সবাই দরজা-জানালা ইত্যাদি বন্ধ করে ঘরের ভেতরে থাকি। ফলে আমরা প্রায়ই এই সময়কে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু মৌসুম বলি। ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠান্ডা ও শুষ্ক অবস্থায় সতেজ হয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে শীতকালকে অনেক সময় ফ্লু মৌসুম বলা হয়। শীতে আচরণগত পার্থক্যেরও প্রভাব থাকতে পারে।

নেলসন মাইকেলের ধারণা, করোনা ভাইরাস ফ্লু’র মতো আচরণ করতে পারে এবং আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে উঠলে হয়ত প্রাদুর্ভাব কমে যেতে পারে। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলছেন, আবার যখন শীত ফিরে আসবে তখন ভাইরাসটিও ফেরত আসতে পারে।

আশাবাদের জায়গা হলো, বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনগণের অভূতপূর্ব পদপেক্ষেপের ফলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। গরম আবহাওয়ায় বিস্তার কম হলে স্বাস্থ্যসেবা সময় ও সুযোগ পাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করার এবং একটি সম্ভাব্য টিকা আবিষ্কারের।

নেলসন মাইকেল সতর্ক করে বলেন, এখন আমরা যা কিছু করছি তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের বিস্তার ঠেকানোর জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

কিন্তু যদি ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো আচরণ না করে? তাহলে কী বছর জুড়ে আমাদের উচ্চ সংক্রমণ হার মোকাবিলা করতে হবে? সিঙ্গাপুরে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যেখানে গরম ও উষ্ণ-আর্দ্র চমৎকার আবহাওয়া সারা বছর বিরাজ করে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় এখন গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে রয়েছে, এসব স্থানেও অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তাই গরমের উপর ভরসা না করে সতর্ক থাকার পরাশর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বাইরে বেরোলে সব সময় মুকে মাস্ক পড়ে থাকতেও বলা হচ্ছে৷ তবে এক্ষেত্রে যাঁদের সর্দি বা কাশির উপসর্গ রয়েছে তাঁদেরই বেশি করে এই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে৷ গুজবে কান না দিয়ে সচেতনভাবে পদক্ষেপ করোনা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।