ত্বক ও চুল ভাল রাখতে কী ভূমিকা রাখে কমলালেবু?

কমলালেবু কেবল স্বাদই নয়, স্বাস্থ্যের নানা রোগ প্রতিকারের জন্য এই ফলকে ডায়েটে রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। কমলালেবুর বিশেষ কিছু গুণ শরীরকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কমলালেবু যেমন মওসুমি ফলের ভূমিকা পালন করে, তেমনই স্ট্রোক রুখতে, ওবেসিটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও শরীরে ফাইবারের চাহিদা মেটাতে খুবই কাজে আসে।

কমলালেবুর গুণাগুণ নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা আমেরিকান জার্নাল অব এপিডেমিওলজি’র দাবি শিশুকে ৬ মাসের পর থেকে ২ বছর অবধি কমলালেবুর রস খাওয়ালে তার লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

দৈনিক যতটুকু ভিটামিন 'সি' প্রয়োজন তার প্রায় সবটাই আছে একটি কমলায়। এই ভিটামিন সি ক্যান্সার প্রতিরোধক, স্বাস্থ্যকর, রক্ত তৈরিকারক এবং ক্ষত আরোগ্যকারী হিসেবে খুবই উপযোগী। এছাড়া জন্মগত ত্রুটি এবং দুরারোগ্যের জন্য ভালো কাজ করে।

এবার জানা যাক কমলার আর কী কী গুণ রয়েছে সে সম্পর্কে-

* ফাইবারের পরিমাণ বাড়লে রক্তে ইনসুলিনও বাড়ে। একটি মাঝারি আকারের কমলালেবুতে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। ফলে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কমলালেবু।

* কমলালেবুতে মেলে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, কোলিন। এগুলি হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে বিশেষ উপকারে আসে। 

* কমলার উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১টি কমলা খাওয়া উচিত। হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে, হৃদস্পন্দনের গতি ঠিক রাখতে এই উপাদানের ভূমিকা অনেক।

* আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুসারে নিয়মিত কমলালেবু বা আঙুর জাতীয় ফল খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের পথকে মসৃণ ও অনুকূল করতে কমলালেবু ও আঙুর জাতীয় ফলের পটাশিয়াম ও কোলিন কাজে আসে।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কমলার পটাশিয়াম সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়েটে রাখা উচিত কমলালেবু।

* ত্বক ও চুলের উপকার করে ভিটামিন সি। চুলের বৃদ্ধি, ত্বকের উজ্জ্বল্য এসব ধরে রাখতে ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কমলালেবুতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, তাই ত্বক ও চুল ভাল রাখতে বেশি বেশি কমলা খেতে পারেন।