পরিজনের কান্নায় মৃত ব্যক্তির আজাব বাড়ে

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বাণী অনুযায়ী, পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে আজাব দেওয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে। কারণ, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। (সূরা তাহরীম: ৬) এবং নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, 'তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তা হলে তার বিধান হবে যা 'আয়িশা (রা.) উদ্ধৃত করেছেন, 'নিজ বোঝা বহনকারী কোনো ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না (সূরা ফাতির: ১৮)। আর এ হলো আল্লাহ পাকের বাণীর ন্যায়, ' কোনো (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকে তা বহন করতে আহবান করে তবে তা থেকে এর কিছুই বহন করা হবে না। (সূরা ফাতির: ১৮)। আর বিলাপ করা ছাড়া কান্নার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'অন্যায়ভাবে কাউকে খুন করা হলে সে খুনের অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর তা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে খুনের প্রবর্তন করেছে।


ইসমাইল (র) যায়নাব বিনত আবূ সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রা)-এর ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনিয়ে তা ব্যবহার করলেন। এরপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারে আমার কোনো প্রয়োজন নেই, তবু যেহেতু আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোনো স্ত্রীলোকের পক্ষে কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের বেশি শোক পালন করা জায়েজ নয়। তবে স্বামীর জন্য চারমাস দশদিন (পালন করবে)।


আদম (র) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পাশে কাঁদছিলেন। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং সবর করো। মহিলাটি বললেন, আমার কাছ থেকে চলে যান। আপনার উপর তো আমার মতো মুসিবত আসেনি। তিনি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হলো, তিনি তো নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন তিনি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুয়ারে হাজির হলেন, তাঁর কাছে কোনো পাহারাদার পেলেন না। তিনি আরজ করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সবর তো বিপদের প্রথম অবস্থাতেই। (বুখারী শরীফ: ২য় খণ্ড)


লেখক: ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (র.)