কতটা স্বাস্থ্যকর ব্রকলি?

শীত এসে গিয়েছে। সঙ্গে হাজির শীতের নানা রকম সব্জিও। আগে খুব একটা প্রচলন না থাকলেও এখন কিন্তু শীত এলেই বাজারে চলে আসে তাজা ব্রকলি।


ব্রকলি বা ব্রোকোলি ক্রসিফেরী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত শীতকালীন সবজি। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, আঁশ আছে।


ব্রকলিতে পাওয়া যায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি। দিনে মাত্র ১০০ গ্রাম ব্রকলি শরীরে প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার ১৫০% পূরণ হতে পারে।


উৎপত্তিগত ভাবে একেবারেই ভারতীয় না হলেও গত কয়েক দশক ধরে ভারতের নানা জায়গায় এর পুরোদস্তুর চাষ হচ্ছে। শীতকালে এখন অনেকেই নানা ধরনের তরকারি তৈরি করেন ব্রকলি দিয়ে। স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিক থেকেও ফুলকপির এই তুতোভাইটির কিন্তু গুণ অনেক।


১। ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। অন্য বহু সব্জির তুলনায় এর ফাইবারের পরিমাণ বেশি। ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। তা ছাড়া ফাইবার ধীরে পাচিত হয়। তাই দীর্ঘ ক্ষণ পেতে থাকে। খিদেও কম পায়। ফলে যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরা নিয়মিত ব্রকলি খেতে পারেন।


২। ব্রকলিতে ভিটামিনের মাত্রাও অনেকটাই বেশি। সবচেয়ে বেশি মাত্রায় থাকে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শীতকালে নিয়মিত ব্রকলির খেলে সর্দি-কাশির মতো সমস্যা কমতে পারে।


৩। যাঁদের দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে, তাঁদের জন্যেও উপকারী হতে পারে ব্রকলি। রক্তাল্পতা দেখা দিলে শরীর দুর্বল লাগতে পারে, হতে পারে শ্বাসকষ্ট। ব্রকলি এই সমস্যাও কমিয়ে দিতে পারে। আয়রনে ভরপুর ব্রকলি রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।


৪। হার্টের সমস্যাতেও বেশ উপকারী ব্রকলি। এই সব্জিতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম। এই মৌলটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভাল রাখে পটাশিয়াম।


৫। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, ব্রকলির ক্যানসাররোধী গুণ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রকলির চারা মস্তিষ্কের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও হাড় মজবুত করা থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন— গুণের শেষ নেই ব্রকলির।


৬। ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলি অনন্য। ব্রকলিতে থাকা বিটা ক্যারোটিন, এস্ট্রোজেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, যকৃত ক্যান্সারের প্রতিরোধেও ব্রকলির কার্যকারিতা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।


৭। দেখা গেছে, অ্যালার্জির সমস্যা ও যেকোন প্রদাহ দূর করতে ব্রকলির জুড়ি নেই। ব্রকলিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩, অ্যানজাইম। যা প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা আর্থাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্যও ব্রকলি খাওয়া অত্যন্ত জরুরী।


৮। ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ব্রকলি ভিটামিন সি ও সেলিনিয়ামের গুণেও ভরপুর। এই উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দেহে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে।


৯। ফলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমে যায়। হাড় মজবুত রাখতে ব্রকলি খুবই কার্যকর। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে হাড়ের জন্য খুবই ভালো। এছাড়া ব্রকলিতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস।


সব বয়সীদের জন্যই ব্রকলি উপকারি। তবে বাড়ন্ত শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য ব্রকলির উপকারিতার শেষ নেই। ত্বক সুস্থ রাখে ব্রকলি। ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক করে ঝলমলে। যারা ত্বক সুস্থ রাখতে চান তারা নিয়মিত ব্রকলি খেতে পারেন। প্রাকৃতিকভাবেই এটি ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভিটামিন কে, ফলেট ও অ্যামিনো এসিড ত্বকের জন্য বেশ ভালো।


এ ছাড়া এতে প্রচুর আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সের ছাপ কমাতে অত্যন্ত উপকারি। শুধু তাই নয়, ত্বকের মরাকোষ, ব্রণ, দাগ দূর করতে ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত ব্রকলি খাওয়া ভালো।


ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে ব্রকলি : আমাদের দেহে নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান জন্ম নেয় এবং নানা রোগব্যাধির কারণ হয়। দেহের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে ব্রকলি খুবই কার্যকর। ফলে অনেক রোগ-বালাই থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ ছাড়া ব্রকলি হজমে সহায়তা করে, পেট ভালো রাখে।


দুর্দান্ত কিছু পুষ্টি উপাদানের কারণে সেরা সবজিগুলোর মধ্যে ব্রকলি একটি। তাই আপনার খাদ্যতালিকায় ব্রকলি রাখুন।