কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে বিএনপির ১২ দফা

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের জন্য সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।

দলের দাবিগুলো তুলে ধরে ফখরুল বলেন, কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে, কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে।

বিএনপির অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে সরকার–ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী কৃষককে কমপক্ষে তিন মাসের জন্য সমপরিমাণ টাকা বিনা সুদে প্রদান করা; সরকারি পর্যায়ের ধান–চাল গুদামজাত করার ক্ষমতা বাড়িয়ে বেশি পরিমাণে ধান কেনা; কৃষকদের সহায়তার জন্য বেসরকারি গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান–চাল সংগ্রহ করা; কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া; কৃষকদের হয়রানি কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা, প্রান্তিক চাষি ও খেতমজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ; ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে অসৎ কর্মকর্তাদের সরানো এবং অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।

ফখরুল বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। দেশে ধান উৎপাদন সম্পর্কে সরকার মিথ্যাচার করছে। মৌসুমের আগেই ধানের সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা এবং সংগ্রহ মূল্য অবশ্যই উৎপাদন খরচের চেয়ে যৌক্তিক পরিমাণ বেশি হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষক পরিবারের আজ  ত্রাহি অবস্থা।

মির্জা ফখরুল বলেন,‘কৃষকদের বিশেষ করে ধানচাষিদের চাওয়া হচ্ছে সরকার ন্যায্যমূল্যে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনুক। কৃষকদের চাওয়া খুবই সামান্য ও যৌক্তিক। আমরা কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।