এই না হলে পুলিশ!

সাধারণ মানুষের সেবা নিয়োজিত পুলিশ। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি তাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষেল সেবা করা। তবে কজন করেন। আজকাল জনগণের কাছে ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ বাহিনী। এর কারণ পুলিশে থাকা গুটি কয়েক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড। তবে পুলিশ যে জনগণের সেবাতেই নিয়োত তার প্রমাণ রেখেছেন শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর জীবন রক্ষার পাশাপাশি তার নবজাতক সন্তানেরও দেখভাল করছেন। এমনকি হাসপাতালের খাতায় শিশুর অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজের নাম দিয়েছেন।

জানা যায়, বুধবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন আসে শাহজানপুরের গ্রিন লাইন বাস কাউন্টারের পাশের গলিতে পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন, যেতে হবে। গিয়ে দেখেন আউটার সার্কুলার রোড়ের সরু একটি গলির রাস্তায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী প্রসব বেদনা নিয়ে কাতরাচ্ছেন। আশপাশের অনেক মানুষ থাকলেও এ সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। সেখানে ভূমিষ্ঠ হয় ফুটফুটে এক নবজাতক (ছেলে শিশু)।

রাস্তার পাশে ভূমিষ্ঠ হওয়া সেই নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় নবজাতকের মায়ের নাম অজ্ঞাত এবং বাবার পরিচয় দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় সেখানেও অজ্ঞাত লেখা হয়। ওই নারী ও নবজাতকের কাছের আত্মীয় কেউ না থাকায় এগিয়ে আসেন উদ্ধারকারী নিজেই। নিকট আত্মীয়ের ঘরে লিখে দেন নিজের নাম। শুধু অভিভাবকের ঘরে নিজের নাম লেখে দায় শেষ করেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাদের খোঁজখবরও নিচ্ছেন।

আতিকুর রহমান বলেন, দুইজন পথচারী মহিলার সহযোগিতায় অচেতন থাকা ওই নারীকে ভ্যানে এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে কোলে নিয়ে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাই। নবজাতকের বাবার নাম অজ্ঞাত এবং মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় হাসপাতালের দাফতরিক কাগজপত্রে নবজাতকের অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের নামের ঘরে লেখার মতো কেউ ছিল না। তখন ওই ঘরে আমি নিজের নাম লিখে দিয়েছি।