শাহীনের চিকিৎসার ভার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, অপারেশন সম্পন্ন

সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসীদের ধারালো দায়ের কোপে আহত ভ্যানচালক কিশোর শাহিন মোড়লের (১৪) চিকিৎসার দায়িত্বভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন।

শনিবার (২৯ জুন) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শাহীনের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো জ্ঞান ফেরেনি তার। বর্তমানে সে হাসপাতালের জেনারেল আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের হায়দার মোড়লের ছেলে সে। তার আরো দুই বোন রয়েছে।

ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৯ জুন) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তাকে ঢামেকে আনার পর রাত সাড়ে ১২টায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন শেষে রাত সোয়া ৩টায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। তবে এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, শাহিনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর। গতকাল রাতে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। তার অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

নাসির উদ্দিন জানান, হাসপাতালের পক্ষ থেকেই শাহিনের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে নিউরোসার্জারির বিভাগীয় প্রধানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শাহিনের চিকিৎসা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন গতকাল শনিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালে শাহিনের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্বভার নিয়েছেন।

যশোরের কেশবপুরের গোলাখালী মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহীন গত শুক্রবার সকালে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে রোজগারে বের হয়েছিল। দুপুরে দুর্বৃত্তরা ভ্যানটি ভাড়া নেয়। পরে ধানদিয়া গ্রামের হামজাম তলা মাঠে ঢুকে একটি পাটখেতের পাশে দুর্বৃত্তরা শাহীনের মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে সে। জ্ঞান ফিরে কাঁদতে থাকলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় খবর দেয়।

এ ঘটনার পর আহত শাহিনকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শাহিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তারা গ্রেপ্তার হবে।