দিনাজপুরে লোহার খনি আবিস্কার, মিলবে সোনাও

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। খনিটির ব্যাপ্তি ছয় থেকে ১০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে সোনার অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। এক হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দুই মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাকিমপুর উপজেলা সদরের হিলি স্থলবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইসবপুর গ্রাম। ওই গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি চার মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এরপর থেকে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এখানে লোহার আকরিকের (যার বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনেটাইট) খনির সন্ধান মিলেছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব বা মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন।

খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম আজ সকালে সাংবাদিকদের বলেন, এর আগে ২০১৩ সালে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এই গ্রামের তিন কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে দীর্ঘ ছয় বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর এক হাজার ৩৮০ থেকে এক হাজার ৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে লোহা থাকার সম্ভাবনা দেখা যায়। এই খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে এক হাজার ৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। এখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের মজুদের একটি স্তর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলে ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এই সন্ধান পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ওই ধরনের রিজার্ভ যদি আশেপাশের এলাকাসহ এখানে থাকে তাহলে সেটা বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম আয়রনের খনি এবং বিশ্বের মধ্যে একটা স্থান করে নেওয়ায় বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৪’শ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। আর এ কারণেই এখানে আগ্নেয় শিলার অবস্থান থাকায় লৌহ জাতীয় খনিজ পদার্থের খনি রয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি এখানে উন্নত মানের লৌহ খনি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখান থেকে যেসব নমুনা বিভিন্ন ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম সেগুলোর রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা গেছে, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে সেসব খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। আর বাংলাদেশের লোহার মান ৬৫ শতাংশের ওপরে বলে রিপোর্টে জানা গেছে। জয়পুরহাট বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। এখানে কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও ১১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।