জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দলে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এখানে বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। ৯৯ শতাংশ প্রেসিডিয়ামের সমর্থন পাচ্ছেন দাবি করে তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে- জাতীয় পার্টি তা পূরণ করবে। পার্টির বনানী কার্যালয়ে শনিবার জাতীয় পার্টির যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বন্যার্তদের সহায়তার কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য বৈঠক করা হয়েছে। মিটিংয়ে ৮০ শতাংশ নেতা উপস্থিত ছিলেন। আমি আগে থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। পার্টির চেয়ারম্যান জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। পার্টির গঠনতন্ত্র তাকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে।’

এরশাদ সব সময় নিজেকে শৃঙ্খলিত বলে মন্তব্য করতেন। আপনিও কি তেমন অবস্থার মধ্যে আছেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে জিএম কাদের বলেন, দায়িত্বটাই একটা শৃঙ্খল। অনেক কিছু চাইলেই করা যায় না। আপনি যদি বিয়ে করেন তখনও কিন্তু কিছু শৃঙ্খল তৈরি হয়।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ডাকা এ সভায় সংসদ সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর জাতীয় পার্টির থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর এটাই দলের প্রথম যৌথসভা।

সভার শুরুতে জিএম কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। সভায় সিদ্ধান্ত হয়-বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাবে জাতীয় পার্টি। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিম পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সর্বনিু ২ মাসের চাঁদার সমপরিমাণ টাকা ত্রাণ ফান্ডে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা পার্টির সংসদ সদস্যদের এক লাখ টাকা করে দেয়ার অনুরোধ করেন। তার এ প্রস্তাবে অন্যরা সমর্থন জানান।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তায় পাঁচ লাখ টাকা এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ মান্নান, সোলায়মান আলম শেঠসহ অনেকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।

এ সময় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বন্যাদুর্গতের পাশে দাঁড়ানোর প্রশংসনীয় উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘মানুষের বিপদে-আপদে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সবসময় ছুটে গেছেন। সাহায্যের হাত নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার আদর্শকে ধারণ করে এবারের বন্যায়ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আমাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্র“প সব সময় অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, অতীতেও নানা দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এ সময় জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যৌথ নেতৃত্ব পার্টিকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করেছে। জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই এবং কোনো বিশৃঙ্খলা নেই জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে। পার্টির ৯৯ ভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রতিটি কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি দুর্যোগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্গত মানুষের পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে দাঁড়াতেন। এক বুক পানিতে নেমেও ত্রাণ বিতরণ করেছেন এরশাদ। আমরা তার আদর্শ ধারণ করে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উত্তরসূরি হিসেবে বিপদে-আপদে গণমানুষের পাশে থেকে তার রাজনীতি আরও এগিয়ে নিতে চাই। আমরা কাজের মাধ্যমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মৃতি সাধারণ মানুষের সামনে জীবন্ত করে রাখব।

জিএম কাদের বলেন, বন্যার্তদের সহায়তায় জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। এছাড়া ৪-৫টি টিম বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবে। বন্যার্তদের পাশে থেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে গণমানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। আমরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গণমানুষের ভালোবাসায় রাজনীতি করতে চাই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, দেশের বিশাল এলাকা বন্যা প্লাবিত। আমরা ত্রাণ বিতরণ করে দুর্গত মানুষের পাশে থাকব। পাশাপাশি সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করব। বন্যাদুর্গত এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাধ্যমতো সহায়তা করতে আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আবুল কাশেম, সাহিদুর রহমান টেপা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ আবদুল মান্নান, শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সোলায়মান আলম শেঠ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিকদার লোটন, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আখতার এমপি, সৈয়দ দিদার বখত, এমরান হোসেন মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, হিনা খান পন্নি, সরদার শাহজাহান, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, হাসিবুল ইসলাম জয়, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁইয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।