বাড্ডায় গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় ৩ জন রিমান্ডে

রাজধানীর বাড্ডায় গণপিটুনি দিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন যুবকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুলাই) আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার গাবতলী হাওলারদার বাড়ির বাস্দিা শাহীন (৩১), ময়মনসিংহের ধোবাউরা উপজেলার দরশা গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (২৮) ও উত্তর বাড্ডা কাঁচা বাজারের ফারুকের মুদি দোকানের কর্মী বাপ্পী (২১)।

উল্লেখ্য, শনিবার (২০ জুলাই) সকালে উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড্ডা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তি করতে স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এজন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে কথা বলতে রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল আঙ্গিনায় তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন। প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে, স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার রেনুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শনিবার বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নাসির উদ্দিন। মামলায় বলা হয়েছে, অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।