পদ্মাসেতুর গুজব নিয়ে যা জানালো সেতু কর্তৃপক্ষ

সারাদিন ব্যাপী পদ্মাসেতু নির্মাণ বিষয়ে একটি গুজবে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির টাইমলাইনে স্ট্যাটাস পোস্ট করে গুজব ছড়াতে দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে ম্যাসেঞ্জারের ইনবক্স করে একে অপরকে সতর্ক করেছেন নেটিজেনদের কেউ কেউ। বেশিরভাগ মানুষই না বুঝে-শুনে এরকম কুসংস্কারে গা ভাসিয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত এমন অলীক, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোকে থামাতে নিজেই উদ্যোগ নিলো পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ গুজবে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

গতকাল (মঙ্গলবার) এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই।’

এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জানিয়ে তিনি এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুর জন্য মানুষের রক্ত বা মাথা লাগবে এমন গুজব বা অপপ্রচার এটাই প্রথম হয়নি। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে একইরকম গুজব ছড়িয়েছিল রাজবাড়ী জেলায়।

সে সময় রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ১৫ দিনের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পদ্মা সেতুর জন্য রক্ত লাগবে বলে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে বলে অপপ্রচার চালানো হয় তখন।