সড়কপথে চরম ভোগান্তি, ভাড়া বেড়েছে ৩ থেকে ৫ গুণ

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বাড়ির উদ্দেশে যাত্রাপথে মানুষের ভোগান্তি ততটাই বাড়ছে। সড়কপথে যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু তারপরও বাড়ির পথে যাত্রা থেমে নেই। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শত ভোগান্তিও মেনে নিচ্ছেন সবাই।

মহাখালী বাস টার্মিনালে গতকাল রাত থেকেই মানুষ অপেক্ষা করলেও ঠিক সময়ে বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। কোনো বাস ১০ ঘণ্টা, আবার কোনোটি ১২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। একই অবস্থা সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও।

এর আগে যে গাড়িগুলো ঈদযাত্রায় ছেড়ে গেছে, সেগুলো ঠিক সময়ে ফিরে না আসায় এ দুর্ভোগ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অভিযোগ, যাঁরা আগে থেকে টিকেট কেটে রাখেননি, তাঁদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া নেয়া হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে থেকে আরিচা ঘাটে যেতে ভাড়া ৭০ টাকা। তবে বেশিরভাগ বাসই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। এ ব্যাপারে তাদের যুক্ত, আসার সময় বাসে কোনো যাত্রী থাকে না। এ কারণেই তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।

এদিকে, গুলিস্তান বাস কাউন্টার ও সায়েদাবাদ থেকে মাওয়া যেতে ভাড়া ৭০ টাকা। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তারাও এই যুক্তি দেখাচ্ছে।

এদিকে, যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকায় বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের উত্তরবঙ্গমুখী লেনে অন্তত ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কখনো থেমে থেমে যানজট আবার কখনো কচ্ছপ গতিতে চলছে গাড়ি। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী লেন স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডার মোড় থেকেই এ যানজটের সৃষ্টি হয়ে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে যানবাহনের বাড়তি চাপে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো হাজারো মানুষ। ফেরি ঘাট থেকে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এ এলাকায় যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

যানজটের কারণে প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছেছেন অনেক যাত্রী। যানজট ও ভোগান্তির জন্য ঘাট ব্যবস্থপনাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগিরা। তাদের অভিযোগ, ঘাটে বর্তমানে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।

দ্বিতীয় দিনেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে। বর্তমানে এই নৌ রুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি রয়েছে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য। পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের জন্য রয়েছে ৮৮টি লঞ্চ, সাড়ে ৪শ স্পিডবোট ও ট্রলার।