ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

বহুতল ভবন বা যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সেখানকার রাস্তার অবস্থা, সড়কে গাড়ির চাপ, ধারণক্ষমতা ও জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, বারান্দা এবং অগ্নিনির্বাপণ, খোলা জায়গা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্যাদি অবহিতকরণ শীর্ষক সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় খেলার মাঠ, জলাধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনগণ ও রাস্তায় গাড়ির চাপ, আবাসিক ভবনে ন্যাচারাল ভেন্টিলেশনসহ বিভিন্ন বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে সুপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে সাধারণ দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটা প্রবণতা খালি জায়গা পেলে দালান তোলা, এটা একটা অসুস্থতার মতো হয়ে যাচ্ছে। কেউ রাস্তা দিতে চায় না, মাঠও দিতে চায় না; বিল্ডিং করে ফেলে। বহুতল ভবন বা যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সেখানকার অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, কোথাও কোনো স্থাপনা করতে গেলে দেখতে হবে ওই এলাকার রাস্তায় কতটা গাড়ি চলে, নতুন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নতুন কতটা ট্র্যাফিক যোগ হবে। ওই রাস্তায় ট্র্যাফিক কতটা নিতে পারবে সেটা দেখতে হবে।

সারাদেশে যত্রতত্র জমি ব্যবহার করতে পারবে না, এজন্য একটা আইন করার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, বারান্দা এবং অগ্নিনির্বাপণ, খোলা জায়গা রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসি সব সময় ব্যবহার করা ঠিক না। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না। খোলা জায়গা, ন্যাচারাল বাতাস থাকে, সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা থাকতে হবে, ন্যাচারাল ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে, রান্নাঘর থেকে ময়লা নিচে ছুড়ে ফেলেন। গুলশানের মতো জায়গাতেও দেখা যায় দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে এক মানুষ সমান ময়লার স্তূপ জমে আছে।

সচিবালয়ের যেসব মন্ত্রণালয়ে লোকজন বেশি আসে সেসব মন্ত্রণালয়গুলোকে ভবনের নিচের দিকে রাখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, সচিবালয়ে যেসব মন্ত্রণালয়ে মানুষ বেশি আসে তাদের অফিস ভবনের নিচের দিকে রাখা, হাঁটাপথের মধ্যে রাখা দরকার। যেমন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রচুর লোক আসে, তাদের দিয়ে রেখেছে ওপরে। সারাক্ষণ মানুষ আসে, লিফ্‌টেও ভিড়।

ভবনের সব জায়গায় টয়লেট না করে একপাশে নির্দিষ্ট জায়গায় টয়লেটগুলো করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সার্ভিস লাইন নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনকেও ভূগর্ভে স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।