ভোলার ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র ৬ দফা দাবি মেনে নিল প্রশাসন

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র ছয় দফা দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন।

দাবি মেনে নেওয়ায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

ছয় দফা দাবি হলো

১. জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে

২. ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে

৩. আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

৪. নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে

৫. অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং

৬. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে

গতকাল রাতে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, বরিশাল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. এনামুল হকসহ বিভাগীয় জেলার কর্মকর্তারা ‘তৌহিদী জনতা’র নেতাদের সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থানায় মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে নেতারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গতকাল ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক যুবকের বিচারের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে নিহত হয় চারজন। পুলিশসহ আহত হয় শতাধিক।

পুলিশ বলছে, এক যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন।

প্রশাসন বলছে, ফাঁসি নয়, যেই অপরাধী শনাক্ত হোক না কেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। দাবি মেনে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার পর তৌহিদী জনতা আজকের সমাবেশ বাতিল করেছে।