নদী তীরবর্তী ৯ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির সমতল বাড়বে আরও ৪৮ ঘণ্টা। ফলে দেশের নয় জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ভারত ফারাক্কার ১০৯টি গেট খুলে দেওয়ায় নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অতি বৃষ্টির পানিও। এরফলে দেশের নদ-নদীর ৪ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন/চারদিন এই পানি আরও বাড়বে। এতে পদ্মার তীরবর্তী জেলা শহরগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সবাইকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতল বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। ফলে গঙ্গা-পদ্মা ও গড়াই নদী সংলগ্ন পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। যা ১০ দিনের মতো স্থায়ী হতে পারে।

পাউবো বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাবে।পাউবো পর্যবেক্ষণ অধীন ৯৩টি স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে, ২৪টিতে কমেছে। আর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে চারটি পয়েন্টের পানি।

গোয়ালন্দে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কামারখালীতে গড়াই নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজে গঙ্গা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে আর মেঘনা ব্রিজে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েকদিন বাংলাদেশের সীমান্তর্তী ভারতের বিভিন্ন জেলা ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। ফলে নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কমেছে। বুধবার (২ অক্টোবর) দেশের অধিকাংশ জায়গায় তেমন বর্ষণ হয়নি। সবেচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশালের খেপুপাড়ায়, ৮৫ মিলিমিটার।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জেলা-উপজেলার সব পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পদ্মার অববাহিকার জেলাগুলোসহ দেশের সব জেলায় বন্যা বা ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।