সকল স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সব স্থাপনা-সড়ক থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) এ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নির্দেশনায় ৯০ দিনের মধ্যে এ আদেশ পালন করে স্থানীয় সরকার সচিব ও শিক্ষা সচিবকে ২৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে রাশেদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। স্থানীয় সরকার সচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম।

আদেশে বলা হয়, খুলনা মহানগরীর ‘খান-এ-সবুর’ সড়কের নাম প্রত্যাহার করে আগের ‘যশোর রোড’ নামটি ব্যবহার করতে হবে এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাহ আজিজুর রহমান’ মিলনায়তনের নাম প্রত্যাহার করতে হবে।

পরে এ কে রাশেদুল হক জানান, স্থানীয় সরকারের সচিবের প্রতিবেদন অনুসারে ৩০টির মতো এ রকমের স্থাপনা আছে। যার মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত আদেশ দিয়েছেন এ ধরনের যেকোনো স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করতে। ৯০ দিনের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করে ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দিতে হবে।

এদিকে, স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা পাঁচটি কলেজের নাম পরিবর্তন করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে একটি কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকি চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রাঙামাটির রাবেতা মডেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে লংগডু মডেল কলেজ রাখা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর যে চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে সেগুলো হল-

# হবিগঞ্জের মাদবপুরের সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজ। এটির পরিবর্তিত নাম হচ্ছে মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজ।

# কক্সবাজারের ঈদগাও ফরিদ আহমেদ কলেজ। পরিবর্তিত নাম হচ্ছে ঈদগাও রশিদ আহমেদ কলেজ।

# টাঙ্গাইলের বাশাইল এমদাদ হামিদা কলেজ। পরিবর্তিত নাম হচ্ছে বাশাইল ডিগ্রি কলেজ।

# গাইবান্ধার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার কলেজ। এটির পরিবর্তিত নাম হচ্ছে ধর্মপুর ডিগ্রি কলেজ।