পেঁয়াজের দাম নিয়ে উত্তাল সংসদ

পেঁয়াজের উচ্চমূল্য নিয়ে সংসদে উম্মা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারিদল ও বিরোধীদলের সদস্যরা এ দাবি জানান। এসময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলেই বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।  প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আমি আহবান জানাই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে পেঁয়াজের দাম কমে। মানুষের দুর্ভোগ দুর হয়।

বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দু’দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন পেঁয়াজের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মন্ত্রী একথা বলার পরদিনই পেঁয়াজের কেজি দেড়শ টাকা হয়ে গেলো। আজ (বৃহস্পতিবার) দুইশ টাকা কেজি। নিউজে দেখলাম পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় ভারতের কৃষকরা কাঁদছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সর্ম্পক। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন তাহলে হয়তো এ সমস্যাটা থাকতো না।

চুন্নু বলেন, সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মারা যায়। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের একজন মারা যাক না। আমি মনে করি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পেঁয়াজের দাম যখন ১শ টাকা তখন বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরই পেঁয়াজের দাম ৫০-১০০ টাকা বেড়ে গেলো। মন্ত্রী কেন এটা বললেন। তিনি এটা বলার কারণে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে গেলো। এত সুদক্ষ মন্ত্রিপরিষদ তারা সুন্দরভাবে কাজ করছেন, তারপরেও পেঁয়াজের দাম এত বেশি বেড়েছে। এতে জনগণের মধ্যে একটি রিঅ্যাকশন তৈরি হয়েছে। দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।  

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বুলবুলের কারণেও পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে। আজ পত্রিকায় দেখলাম পেঁয়াজের কেজি ২শ টাকা। এটা কোনোদিনও আমরা ভাবিনি। আমরা আগেই মূল্যায়ন করি আমাদের উৎপাদন কত, চাহিদা কত, শর্ট কত। যেটা শর্ট সেটা তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানি করি।

এসময় তোফায়েল আহমেদ অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন, তাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য এটি করা হোক। ডিউটিটা শূন্য করে দেন। অর্থমন্ত্রী এ ধরনের একটি ঘোষণা দিলে পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়বে।