ব্যবসায়ীদের ভিড়ে ব্যতিক্রম কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের ৮৬ ভাগেরই পেশা ব্যবসা। তবে প্রার্থীদের বড় অংশেরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বহর কম। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী স্বশিক্ষিত ও স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। সেখানে ব্যতিক্রম ২১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তিনি একজন এমফিল গবেষকও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলামোটর-শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নাম্বার ওয়ার্ড। ঢাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারও রয়েছে এই ওয়ার্ডে। তবে এই এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না বলে নাগরিকদের অভিযোগ। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।


গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ 'লাটিম প্রতীক' নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ওয়ার্ডটিকে সাজাতে চান আসাদ। এ লক্ষ্যে তিনি প্রণয়ন করেছেন তার নির্বাচনী ইশতেহার ‘স্বপ্নযাত্রা’।


নির্বাচিত হলে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে ‘ক্লিন ২১’ নামে একটি অ্যাপস তৈরি করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেখানে এলাকার মানুষ কোথাও অপরিচ্ছন্নতা দেখলেই ছবি তুলে অ্যাপসে আপলোড করতে পারবেন। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী গিয়ে সেসব পরিস্কার করে দেবেন। অন্য যে কোনো সমস্যার কথাও নাগরিকরা জানাতে পারবেন এই অ্যাপসে।

২১ নং ওয়ার্ডের পরিবাগে বসবাসকারী সেলিম মাহামুদ বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এই ওয়ার্ডটি সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় জাদুঘরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা রয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ও মার্জিত প্রতিনিধি চাই। উন্নায়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা চাই এমন একজন প্রার্থী যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। এ এলাকার প্রতিটি অলি-গলি আমার চেনা-জানা। পাশাপাশি এ এলাকার প্রতিটি সমস্যাও আমার চোখে দৃশ্যমান। এ ওয়ার্ডটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানকার বাসিন্দারা অনেক ক্ষেত্রে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। এজন্য আমি এ ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ‘স্বপ্নযাত্রা’ ইশতেহার দিয়েছি। নির্বাচিত হলে এ ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই।