যে কারণে আড়ং কর্মীদের আপত্তিকর ভিডিও করতেন সিরাজুল

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আড়ংয়ের চাকরিচ্যুত কর্মী সিরাজুল ইসলাম সজীবের কাছ থেকে কর্মচারী চেঞ্জরুমে গোপনে ধারণ করা ৩৭টি পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। সবগুলো ভিডিও আড়ংয়ে কর্মরত তরুণীদের। ব্লাকমেইলের উদ্দেশ্যে তাদের ভিডিও ধারণ করতেন সিরাজুল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি আড়ংয়ের এক নারী কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুলকে শেওড়াপাড়ার মণিপুরিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ বলেন, ১৬ জানুয়ারি আড়ংয়ের এক নারী কর্মকর্তা তাঁর শাখাপ্রধানসহ সাইবার অপরাধ দমন বিভাগে যোগাযোগ করেন। এর আগে তাঁরা একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।

ওই নারী অভিযোগ করেন, একটি ফেক আইডি থেকে মেসেঞ্জারে তাঁর ছবি তুলে পাঠানো হয়েছে এবং ভিডিও চ্যাট না করলে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারীটি সন্দেহভাজন একজনের নামও বলেন। সেই অনুযায়ী পুলিশ প্রথমে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাঁর ডিভাইস থেকে ছবি বের করেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত ৩৭টি ভিডিও ৮-১০ জন স্টাফ তরুণীর। তারা ডিউটির শুরুতে স্টাফ চেঞ্জরুমে নিজেদের সাধারণ পোশাক পরিবর্তন করে আড়ংয়ের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরেন। আবার ডিউটি শেষে ইউনিফর্ম বদলে নিজেদের কাপড় পরে বের হয়ে যান। সেসময়ই গোপনে সেলফি স্টিক দিয়ে ওই রুমে স্থাপিত ক্যামেরায় ভিডিও করতেন সজীব।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সিরাজুল এর আগেও জনা দশেক নারী কর্মীর ছবি তুলেছিলেন। তিনি আরও একজনকেও এই ছবি পাঠিয়ে প্রতারণার চেষ্টা আগে করেছিলেন। তা ছাড়া আড়ংয়ের কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ছবি আপলোড করেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে ওই নারী অভিযোগ জানালে আড়ং তদন্ত করে এবং ডিসেম্বরে সিরাজুলকে চাকরিচ্যুত করে।

এ বিষয়ে ডিএমপির সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, আসামি রিমান্ডে রয়েছেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।