ফুলের বাজারে আগুন

বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারাদেশে জমে উঠেছে ফুলের ব্যবসা। দেশি-বিদেশি ফুলে ভরে গেছে শাহবাগসহ রাজধানীর ফুলের মার্কেটগুলো। ফুল কিনতে ভিড়ও শুরু হয়ে গেছে। চাপ বেশি হওয়ায় বিক্রেতারা ফুলের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্থান ভেদে প্রতি পিস গোলাপ ৩০ থেকে ৬০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

ফুলের দাম বেশি হলেও তেমন ক্রেতা মিলছে না বলে দাবি করেন রুহুল আমিন নামে এক খুচরা বিক্রেতা। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফুল কম বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুল বিক্রির প্রকৃত পরিস্থিতি আজ বিকেলে বোঝা যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের ফুলের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ফুলের মালা তৈরি করছেন। তৈরি মালা ও গোলাপসহ বিভিন্ন জাতের ফুল বিক্রি করছেন। অনেকে আজকেই বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে ফুলের দোকানে আসছেন। ফুল কিনছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ফুলের দামের ভিন্নতাও দেখা গেছে। ধানমন্ডিতে যে দেশি গোলাপ ৩০ টাকা, সেটি শাহবাগে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। ধানমন্ডিতে চায়না গোলাপ (দেশে উৎপাদিত) ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা শাহবাগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ফুলের ক্ষেত্রেও দামের পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা গত কয়েকদিন ধরেই ফুল সংগ্রহ করে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের ২৩টি জেলায় দেড় লক্ষাধিক লোক ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন। এই মৌসুমে তাদের প্রায় সবারই ব্যস্ত সময় কাটছে।

যশোরের চাষিরা জানান, এ বছর বিরূপ আবহাওয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ফুলের উৎপাদন অনেক কম। এ কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলের দাম। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, তারা অন্তত ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন।

দক্ষিণাঞ্চলে ফুলের রাজধানী নামে খ্যাত যশোরের গদখালী। আর ফুলের দ্বিতীয় রাজধানী নামে খ্যাতি পেয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ। দেশের ফুলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার অর্ধেক পূরণ করছে এই দুই এলাকা। আসছে বসন্ত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলচাষীরা দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন।

এছাড়া সাভার, চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকেও পুল আসছে রাজধানীর বাজারে। এসব ফুল বিক্রেতা বলছেন, এবার উৎপাদন কম হওয়ায় ফুলের দাম বেশি যাচ্ছে।